শান্তিগঞ্জে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে দোকানে ডেকে নিয়ে বেদরক মারধর করে ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত ওই ব্যবসায়ী হলেন উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোগ গ্রামের মৃত আছদ্দর মিয়ার ছেলে এবং পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টায় উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের পাথারিয়া বাজারে। এ ঘটনায় একইদিন রাতে হাবিবুর রহমানের ভাই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ফখরুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে শান্তিগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাথারিয়া ইউনিয়নের গাজীনগর গ্রামের মৃত মাহমদ আলীর ছেলে ফখরুল ইসলাম একজন সুদের কারবারী হিসেবে পরিচিত। কিছুদিন আগে ঠাকুরভোগ গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে আকমল হোসেনের সঙ্গে উচ্চহারে সুদের টাকার লেনদেন করেন তিনি। তবে ওই লেনদেন বিষয়ে হাবিবুর রহমান হাবিবের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে জানা গেছে।
হাবিবুর রহমান ও তার ভাই দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে পাথারিয়া বাজারে সুনামের সঙ্গে মুদির দোকান পরিচালনা করে আসছেন। ঘটনার দিন হঠাৎ ফখরুল ইসলামের লোকজন হাবিবকে তার দোকান থেকে ডেকে নিয়ে ফখরুলের দোকানের গোদামঘরে নিয়ে যায়। সেখানে আকমলের কাছ থেকে সুদের টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। এক পর্যায়ে ফখরুল ইসলাম, তার ছেলে মাহবুবসহ কয়েকজন মিলে লোহার রড ও রুইল দিয়ে হাবিবকে বেদরক মারধর করে গুরুতর আহত করে। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মারধরের ফলে হাবিবুর রহমানের নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং মাথার একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে আহত হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, সুদের টাকা আমি নেইনি। আমার গ্রামের একজন নিলেও আমি তা জানি না। অথচ নিরপরাধ একজন মানুষকে এভাবে দিনদুপুরে ডেকে নিয়ে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া বর্বরতার শামিল। এভাবে চলতে থাকলে মানুষ বাজারে ব্যবসা করতে আসবে না।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ফখরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা যুবদলের সভাপতি সোহেল মিয়া বলেন, দিনদুপুরে একজন ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতাকে এভাবে দোকানে ডেকে নিয়ে মারধরের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওলীউল্লাহ জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।