বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে অংশ নিতে চান কারাবন্দী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক (তিনি ব্যারিস্টার সুমন নামে পরিচিত)। এ জন্য মনোনয়ন ফরমে তাঁর সইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঢাকার জেলা প্রশাসক বরাবর ১২ এপ্রিল একটি আবেদন দেওয়া হয়।
এই আবেদন নিষ্পত্তিতে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লিটন আহমেদ আবেদনকারী হয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আজ বুধবার রিটটি দায়ের করেন। ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে ঢাকার জেলা প্রশাসক বরাবরে ১২ এপ্রিল ওই আবেদন দিয়েছিলেন আইনজীবী লিটন আহমেদ।
মনোনয়নপত্রে আটক সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের সইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ১২ এপ্রিল করা আবেদন নিষ্পত্তিতে বিবাদীর (ঢাকার জেলা প্রশাসক) নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে।
রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় আটক সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের মনোনয়নপত্রে সইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসকের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে বার কাউন্সিলের প্রতিও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। আইনসচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব ও ঢাকার জেলা প্রশাসককে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
আইনজীবী লিটন আহমেদ আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, বার কাউন্সিল নির্বাচনে সুমন অংশ নিতে চান। আগামী ১৯ মে এই নির্বাচন হবে। নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা ১৬ এপ্রিল শেষ হচ্ছে। প্রার্থী হতে হলে নির্বাচনের মনোনয়ন ফরমে সুমনের স্বাক্ষর প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক বরাবরে ১২ এপ্রিল আবেদন দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার না পেয়ে আবেদন নিষ্পত্তিতে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। শুনানির জন্য রিটটি আগামীকাল আদালতে উত্থাপন করা হবে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাঁর সরকারের সাবেক বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি আমলা, পুলিশ, সাংবাদিকসহ ৭০ জনের বেশি ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন। একই বছরের ২২ অক্টোবর সৈয়দ সায়েদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।