সিলেট জেলা আদালত প্রাঙ্গণে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অ্যাডভোকেট ইয়ামিন চৌধুরী নামে এক আইনজীবীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় ভুক্তভোগী আইনজীবীর হাতের দুটি আঙুল মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত মাসুক উদ্দিন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তিনি একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী।
আহত আইনজীবী ইয়ামিন চৌধুরী হাসপাতালের শয্যা থেকে জানান, এই হামলার মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের পেশাগত প্রতিহিংসা। তিনি বলেন, আমি মাসুক উদ্দিনের একটি হত্যা মামলায় বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত আছি। মাসুক উদ্দিন ঐ মামলায় জামিন বাতিলের উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট আদালতে দাখিল করেছিলেন। আমি বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করি এবং জালিয়াতির প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করি। পরবর্তীতে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় মাসুকের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা (সিআর ১২৪৯/২৩) দায়ের করেন। এছাড়া আরও কয়েকটি কাউন্টার মামলায় তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় সে আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে ফেসবুকে একটি কমেন্টের সূত্র ধরে সে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আজ (বুধবার) আমার ওপর এই হামলা চালায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট ইয়ামিন চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাহেদ আহমদ সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করলে প্রবাসে থাকা মাসুক উদ্দিনের এক ভাই সেখানে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। ঐ কমেন্টকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে বুধবার দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে মাসুক উদ্দিন ধারালো অস্ত্র নিয়ে ইয়ামিন চৌধুরীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাঁকে হত্যার চেষ্টা চালায়।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাহেদ আহমদ তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ উল্লেখ করে অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। আদালত প্রাঙ্গণে খোদ আইনজীবীর ওপর এমন প্রকাশ্য হামলায় সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম ইয়াহ-ইয়া চৌধুরী (সুহেল) এবং সাধারণ সম্পাদক মো. জোবায়ের বখ্ত জুবেরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির বলেন, ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ ঘটনায় সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন আইনজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অভিযুক্ত মাসুক উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।