শান্তিগঞ্জ উপজেলার গ্রামাঞ্চলে মুক্তা চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এ খাতে যে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে, তা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা জাগাচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তর এবং Food and Agriculture Organization (এফএও)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন কমিউনিটি বেইজড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের অধীনে ২৫ জন নারী-পুরুষ নিয়ে গঠিত একটি কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর গ্রামে ২০২৩ সালের জুন মাসে ১৫ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী সদস্য নিয়ে সিবিও গঠন করা হয়। প্রকল্পের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে মুক্তা চাষের মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হয়।
এ কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা প্রদান করে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। ইমেজ প্রতিস্থাপন পদ্ধতির মাধ্যমে ঝিনুকের ভেতরে মুক্তা উৎপাদনের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়। সদরপুর গ্রামের একটি পুকুরে প্রায় ২০০০টি ঝিনুক নেট ব্যাগে সংরক্ষণ করে পানির নিচে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পাশাপাশি রুই জাতীয় মাছের পোনা মজুদ করা হয়, যা সমন্বিত চাষ পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করে।
স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা আরপিডব্লিউএস-এর প্রধান নির্বাহী নাজিম উদ্দিন এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
সম্প্রতি, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল পুকুরটি শুকিয়ে মুক্তা আহরণ করা হলে ১৪৫৪টি ঝিনুক এবং প্রায় ৩০০ কেজি মাছ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ঝিনুক থেকে ৬৪৭টি মুক্তা সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে এসব মুক্তাকে কাটিং ও ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে বাজারজাত করার প্রস্তুতি চলছে এবং বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এই সফলতা সিবিও সদস্যদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পুকুরে ঝিনুক আর হাতে মুক্তা—এই বাস্তবতা সম্ভব হয়েছে সঠিক প্রশিক্ষণ, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মুক্তা চাষ শান্তিগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একটি লাভজনক শিল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।