সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তবর্তী সোনাতনপুঞ্জি গ্রামে টাটা পিকআপের চাপায় কিশোর দিলদার হোসেন (১৭) নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে এ মামলা করেন। মামলায় ভারতীয় চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত পিকআপ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে দিলদারকে চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন কানাইঘাট উপজেলার বাউরভাগ প্রথম খণ্ড গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সেবুল আহমদ (২৪), একই গ্রামের ফয়াজ আহমদের ছেলে মাসুম আহমদ (৩০) এবং জৈন্তাপুর উপজেলার গড়াটিল্লা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে রামিম আহমদ (৩২)। এদের মধ্যে রামিম পিকআপের মালিক ও চালক বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর শনিবার সকাল ৭টার দিকে সীমান্তবর্তী সোনাতনপুঞ্জি এলাকার জলাস ছড়া সেতুর উত্তর পাশে কাঁচা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন দিলদার হোসেন। এ সময় আসামি রামিম আহমদের পিকআপটি দিয়ে ভারতীয় চোরাই পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, মাসুম আহমদের নির্দেশে সেবুল আহমদ চালক না হয়েও পিকআপটি বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে চোরাই পণ্যের কাছে নেওয়ার সময় দিলদারকে চাপা দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, সেবুল ও মাসুম ভারতীয় চোরাচালান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং রামিমের পিকআপ দিয়ে চোরাই পণ্য পরিবহন করা হতো।
এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নম্বর ২, তারিখ ১ নভেম্বর ২০২৬। প্ররোচনার মাধ্যমে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৯৮, ৯৯ ও ১০৫ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় মামলার কোনো আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।