সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে দুই কিশোরের খেলাধুলার একপর্যায়ে একজনের কাঁধের হাড় ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে খোকন ও রুবেল নামে দুই ব্যক্তির নাম আসায় তাঁদের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তাঁদের অভিযোগে জড়ানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে জামালগঞ্জ থানা-পুলিশের তদন্তাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর উপজেলার গোলামীপুর ও শাহপুর গ্রামের নাঈম ও উজ্জল ওরফে মনা নামের দুই কিশোর একসঙ্গে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে নাঈমের বাম কাঁধের হাড়ে ফ্র্যাকচার হয়। ঘটনার পর মনার বাবা আব্দুন নূর আহত নাঈম, তার বাবা নজরুল ইসলাম ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান। নাঈমের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় আব্দুন নূর বহন করেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে ঘটনার কয়েক দিন পর নাঈমের বাবা নজরুল ইসলাম খোকন ও রুবেল নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে মনার বাবা আব্দুন নূরের সঙ্গে নজরুল ইসলামের একটি কথোপকথন নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আব্দুন নূরের দাবি, নজরুল ইসলাম তাঁর বাড়িতে গিয়ে ছেলের হাতের আঘাতের বিষয়টি অন্যদের কাছে স্বীকার না করার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার কথাও বলেন। আব্দুন নূর প্রতিবেদকের কাছে এ কথোপকথনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
অভিযোগে নাম থাকা খোকন ও রুবেলের পক্ষের লোকজন বলছেন, দুই কিশোর খেলতে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনায় তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তাঁদের এ ঘটনায় জড়ানো হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে উজ্জল ওরফে মনা বলেন, আমি বাড়িতে ছিলাম। নাঈম আমাকে খেলতে ডেকে নিয়ে আসে। ফুটবল খেলা শেষে আমরা কুস্তি খেলা শুরু করি। একপর্যায়ে নাঈম পড়ে গিয়ে কাঁধে আঘাত পায়। এরপর আমার বাবা-মা নাঈমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জে নিয়ে যান। কিন্তু এখন দেখছি, আমার বাবাকে চুপ থাকতে বলে খোকন ও রুবেল নামে অন্য দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ নাঈমের আঘাতের ঘটনায় খোকন ও রুবেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অভিযোগকারী নজরুল ইসলাম বলেন, আমি যে অভিযোগ করেছি, তার ঘটনা সত্য। এখন নিজেদের বাঁচাতে তারা টালবাহানা শুরু করেছেন এবং মিথ্যা সাক্ষী উপস্থাপন করছেন। শুধু আমার ছেলেকে মারধরের ঘটনাই নয়, এর আগেও তারা আমাদের সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগদখল করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করলেই ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, এ বিষয়ে আদালতের একটি নির্দেশনা পেয়েছেন তাঁরা। বিষয়টি তদন্তাধীন। সঠিক তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধ ও পূর্বের একটি মামলার জেরে খোকন ও রুবেলকে এ ঘটনায় জড়ানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।