মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুরে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘ফ্রি চক্ষু সেবা ক্যাম্প’ নিয়ে এক যুবদল নেতার ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে এ সংঘর্ষে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আরাফাত, ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আবুল হোসেন এবং ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমেদ। গুরুতর আহত ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আরাফাতকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে আহত আবুল হোসেন বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে বড়লেখা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন বুধবার স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রি চক্ষু সেবা ক্যাম্পে’ চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা শাহবাজপুর বাজারে পৌঁছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ মিছিল করেন। এ সময় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রাত ১১টার দিকে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ নেতাকর্মী আহত হন।
অন্যদিকে, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি প্রভাষক বদরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। যুবদল নেতার ফ্রি চক্ষু সেবা ক্যাম্প নিয়ে করা ফেসবুক পোস্টটি সঠিক নয়। বুধবারের চক্ষু শিবিরে তিন শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় মাত্র একজন রোগী চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে যান। এ বিষয়টি নিয়ে এক যুবদল নেতা ফেসবুকে বিভ্রান্তি ছড়ান। বৃহস্পতিবার রাতে ওই নেতাকে সামনে রেখে বিএনপির লোকজন শোডাউন করেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে তাঁদের পক্ষের কয়েকজন সমর্থকও আহত হয়েছেন।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আবুল হোসেন ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।