সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। নিজেদের সঞ্চিত অর্থ ও ঋণের টাকা বিনিয়োগ করে মাছ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন চার বন্ধু। কিন্তু এক রাতেই সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চার তরুণ উদ্যোক্তা।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চিকসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এবিএম বখতিয়ার, তৌহিদুল মিয়া, মুক্তার হোসেন ও মানিক মিয়া—এই চার বন্ধু নিজেদের জমানো টাকা, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ এবং এনজিও থেকে ধার করা অর্থ দিয়ে একটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। মাছ চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন ও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
শুক্রবার সকালে প্রতিবেশীরা পুকুরের পানিতে মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখে তাঁদের খবর দেন। পরে চার বন্ধু পুকুরে গিয়ে দেখতে পান, চাষ করা অধিকাংশ মাছ মরে পানিতে ভেসে আছে। তাঁদের দাবি, পুকুরের পানিতে তীব্র বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।
হঠাৎ এমন ক্ষতির মুখে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চার বন্ধু। নিজেদের সঞ্চয় ও বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা মাছের খামার এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, মাছ চাষ একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। তরুণরা নিজেদের উদ্যোগে মাছ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। এ ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করা সবার দায়িত্ব। কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ বা সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এভাবে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক আহমেদ বলেন, মাছচাষিদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।