সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মাদক নির্মূলের পাশাপাশি সরকারি সার ও অবৈধ ভারতীয় জিরা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ‘গডফাদার’দের চিহ্নিত করে অবিলম্বে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি মাদক ও চোরাচালানের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ওপর জোর দেন।
সভায় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ বলেন, ‘জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মাদকের বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। দেশের অন্যান্য স্থানে বড় বড় মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হলেও জগন্নাথপুরে কেন মূল গডফাদাররা ধরা পড়ছে না? মাদক সেবনকারী বা খুচরা বিক্রেতা নয়, বরং এদের নেপথ্যের মূল হোতা ও আশ্রয়দাতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি এলাকায় ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্প্রতি জগন্নাথপুরের ওপর দিয়ে সরকারি সার ও অবৈধ ভারতীয় জিরা পাচারের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি পুলিশ ও প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনস্বার্থবিরোধী কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে কোনো প্রকার প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব যেন সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনকে আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা ছাদ মাস্টার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এম এ মুকিত, জগন্নাথপুর থানার প্রতিনিধি (এসআই) নুর হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বেলাল হোসেন, বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান চৌধুরী, প্রেসক্লাব সভাপতি তাজউদ্দিন আহমদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।