সিলেট নগরের বালুচর এলাকার ঐতিহাসিক ‘করিমউল্লাহ টিলা’ অবৈধভাবে কাটার অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে পরিবেশ আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (২০১০ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী শাহপরান (রহ.) থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বালুচরের সাদিপুর ১ম খণ্ড মৌজায় এসএ ১৭২ নম্বর খতিয়ানের ৬৩ নম্বর দাগে অবস্থিত টিলাটি স্থানীয়ভাবে ‘করিমউল্লাহ টিলা’ নামে পরিচিত। গত ২০ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র বা অনুমোদন ছাড়াই টিলাটির একাংশ কেটে মাটি অপসারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত ১১ জন হলেন—উত্তর বালুচরের জালাল উদ্দিন (৫৬), জাহাঙ্গীর মিয়া (৫৮), মোশারফ আলী (৫৫), শাকির আহমদ (৫৩), ইউসুফ আলী (৫৭), নাজমুল (৪১), শহীদুল আলম (৪৭), জাকির হোসেন (৪৪), জসিম উদ্দিন (৫৮), জামাল উদ্দিন (৪২) ও কামাল (৪১)।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, টিলা কাটার অভিযোগ পাওয়ার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে ‘এনফোর্সমেন্ট মামলা (নং-৮৪/২০২৬)’ করা হয়। এরপর অভিযুক্তদের দুটি শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য গত মে মাসে নোটিশ দেওয়া হলেও তারা উপস্থিত হননি। প্রশাসনিক শুনানিতে সাড়া না দেওয়ায় নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবেশ অধিদপ্তর।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬খ ধারা অনুযায়ী, সরকারি রেকর্ডে উল্লেখিত কোনো পাহাড় বা টিলা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কাটা নিষিদ্ধ। আইনের ১৫(১) ধারায় প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে দুই থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং দুই থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মামলা রেকর্ড করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।