সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

রাজনগরে হত্যা মামলায় ৩ আসামি বাদ, অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

মৌলভীবাজারের রাজনগরে হাফেজ রফিকুল ইসলাম তারেক হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে তিন আসামিকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, অর্থের বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজনগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত তারেকের চাচা কামরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের বোন ও মামলার বাদী সেলিনা জান্নাত সুমা এবং মাহবুবা জান্নাত শিমু।

লিখিত বক্তব্যে সেলিনা জান্নাত সুমা বলেন, “আমার ভাই একজন হাফেজ ছিলেন। রমজানের দিনে ইফতারের পাঁচ মিনিট আগে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু মামলার হুকুমদাতা হিসেবে যাদের আমরা অভিযুক্ত করেছি, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”

মামলার নথি ও পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রমজান মাসে ইফতারের প্রায় পাঁচ মিনিট আগে রাজনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘরগাঁও গ্রামে রফিকুল ইসলাম তারেককে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন সেলিনা জান্নাত সুমা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে রাজনগর থানায় মামলা করেন।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান রাজনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অরূপ সরকার। মামলার তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ চট্টগ্রাম থেকে আতিক, সবুজ মিয়া, রিয়াদ মিয়া ও মেহদি হাসান আতিককে গ্রেপ্তার করে। পরে গত ৩১ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, চার্জশিটে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা সবুজ মিয়া, হৃদয় মিয়া ও মোমিন মিয়াকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে মেহদি হাসান আতিক ও রিয়াদ মিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ‘অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে’ তিনজনের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা মামলাটি পুনঃতদন্ত করে চার্জশিট বাতিল এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অরূপ সরকার। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের স্যার ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র সরকারসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। উপস্থিত লোকজনের বক্তব্য ও পরবর্তী তদন্তে ঘটনার সঙ্গে দুইজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। আমি একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে অপরাধী করতে পারি না। হত্যার সুষ্ঠু বিচারের জন্যই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আসামি করেছি।

রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, পুলিশ এখানে প্রভাবিত হয়নি। মামলার সঠিক তদন্ত করা হয়েছে। যাদের ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাওয়া গেছে, তাদেরই চার্জশিটভুক্ত করা হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরো