সিলেটের বিয়ানীবাজারে পূর্ব ও পারিবারিক বিরোধের জেরে আব্দুল কাইয়ুম ও আব্দুল মালিক নামে দুই ব্যক্তির ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর সেখানেও তাদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের ছোটদেশ গ্রামে প্রথম দফায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতরা হলেন ছোটদেশ গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম ও আব্দুল মালিক।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পূর্ব বিরোধের জের ধরে শুক্রবার রাতে একদল যুবক আব্দুল কাইয়ুম ও তার সঙ্গে থাকা আব্দুল মালিকের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।
আহত আব্দুল কাইয়ুমের ভাই আব্দুল খালিক অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী বাড়ির রাফি আহমদের নেতৃত্বে একদল কিশোর এ হামলায় অংশ নেয়। এ সময় কামরুল, এমরানসহ আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পরে স্থানীয়রা আহত আব্দুল কাইয়ুম ও আব্দুল মালিককে উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তাদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এতে চিকিৎসা নিতে এসেও তারা নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন বলে দাবি স্বজনদের।
এদিকে, একই ঘটনায় পরপর দুই দফা হামলার অভিযোগে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসাধীন আহতদের ওপর হাসপাতালের ভেতরে হামলার অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে হামলার প্রকৃত কারণ, দ্বিতীয় দফায় হাসপাতালের ভেতরে হামলার ঘটনা এবং এতে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আহতদের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে আহত আব্দুল কাইয়ুম ও আব্দুল মালিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।