সুরমা ও চেলা নদীতে নৌকা নিয়ে চা বিক্রি করেন বাবা। সেই সামান্য আয়েই চলত সংসার, পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনার খরচ। অভাব-অনটন আর কঠিন জীবনসংগ্রাম পেরিয়ে সেই মেয়েই এবার উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকার আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ অর্জন করেছেন। তিনি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গণেশপুর গ্রামের রুহি বেগম।
রুহি ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছোট মেয়ে। পরিবারের আর্থিক সংকট ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। জীবিকার তাগিদে আব্দুল কাদির সুরমা ও চেলা নদীতে নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করেন। নদীর বুকে ভাসমান এই চায়ের দোকান থেকেই যে আয় হতো, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতেন তিনি।
অভাব থাকলেও মেয়ের পড়াশোনার স্বপ্নে কখনো বাধা দেননি আব্দুল কাদির। বরং নিজের সীমিত সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে মেয়েকে উৎসাহ ও সহযোগিতা করেছেন। বাবার সেই ত্যাগ, অনুপ্রেরণা আর রুহির অদম্য মেধার ফল হিসেবেই এসেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই সাফল্য।
সুনামগঞ্জ উইমেন্স মহিলা কলেজ থেকে পড়াশোনা করা রুহি উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকার এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ অর্জন করেছেন। তাঁর এই অর্জন শুধু পরিবারের জন্য নয়, ছাতক তথা সুনামগঞ্জের জন্যও গৌরবের বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মেয়ের সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা আব্দুল কাদির বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নদীতে নৌকা নিয়ে চা বিক্রি করে সংসার চালানো এবং মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানো ছিল খুবই কঠিন। তবে মেয়ের মেধা ও স্বপ্নের ওপর তাঁর বিশ্বাস ছিল। মেয়ের এই অর্জন তাঁর জীবনের সব কষ্টকে সার্থক করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামের একটি পরিবার থেকে উঠে এসে রুহির এমন আন্তর্জাতিক সাফল্য পুরো এলাকার তরুণ-তরুণীদের জন্য অনুপ্রেরণার। আর্থিক সংকট মেধাবীদের পথ আটকে দিতে পারে না—রুহির সাফল্য তারই প্রমাণ।
তাঁরা আরও বলেন, প্রয়োজন শুধু সুযোগ ও পরিবারের সহযোগিতা। প্রতিকূলতার মধ্যেও যে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেন, রুহি তা দেখিয়ে দিয়েছেন।
রুহির এই সাফল্যে তাঁর শিক্ষক, স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, উচ্চশিক্ষা শেষে রুহি দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।