কলেরা সংক্রমণ প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার টিকা দেওয়া শুরু করেছে সরকার। ২২ আগস্ট থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (পিওসিভি) দেওয়া শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, এক বছর ও তার বেশি বয়সী সবাই এ টিকা নিতে পারবেন। তবে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এ টিকার আওতায় থাকবেন না।
গর্ভবতী নারীরা কেন কলেরার টিকা পাবেন না?
গর্ভবতী নারীদের সাধারণত মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা (ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন) দেওয়া হয় না। কারণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টিকাদান নির্দেশিকা এবং নীতিমালায় গর্ভবতী নারীদের ওপর এই টিকার নিয়মিত ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন বা প্রমিত সুপারিশ এখনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মা ও ভ্রুণের নিরাপত্তার কথা ভেবে গর্ভবতী নারীকে গবেষণার আওতায় রাখা হয় না। যদিও গবেষণায় গর্ভাবস্থায় এই টিকার বড় ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব বা ঝুঁকির জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও গর্ভাবস্থার সংবেদনশীল সময়টিতে ভ্রূণের ওপর যেকোনো অজানা বা সম্ভাব্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া এড়াতে নীতিগতভাবে তাদের এই টিকাদান থেকে বিরত রাখা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের একটি গবেষণা বলছে, গর্ভাবস্থায় নিষ্ক্রিয় ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন গ্রহণের কারণে ভ্রূণ বা নবজাতকের ক্ষতির সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে টিকার নিরাপত্তা নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৪টি উপজেলা ও থানা এলাকায় এ টিকাদান কর্মসূচি চলবে। এ কর্মসূচির আওতায় ৫১ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অধিদফতর জানায়, কর্মসূচির আওতায় মুন্সীগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল উপজেলায় টিকা দেওয়া হবে। ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের তেজগাঁও, খিলক্ষেত ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায়ও টিকাদান করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা জানায়, প্রথম ডোজ ২২ আগস্ট থেকে দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে। কলেরা থেকে সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দুই ডোজ টিকা নিতে হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। এতে গ্যাভি দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), আইএফআরসি, আইসিডিডিআর,বি এবং অন্যান্য উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা সহায়তা করছে।
টিকা নিতে উপযুক্ত নাগরিকদের https://vaxepi.gov.bd/ ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। কিউআর কোড স্ক্যান করেও নিবন্ধন করা যাবে।
নিবন্ধনের মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্য আইডি (এনএইচআইডি) কার্ড তৈরি করা যাবে, যা ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে সহায়ক হবে।