সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় জাকিয়া আক্তার নিহা নামের সাত বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যা করে সুরমা নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে সৎমাকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের গোদারগাঁও এলাকা থেকে সৎমা আম্বিয়া বেগমকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা তাজ উদ্দিন বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
আজ আসামি সৎমা আম্বিয়া বেগমকে আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোদারগাঁও গ্রামের রাজমিস্ত্রী তাজ উদ্দিন তার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আম্বিয়া বেগম (৫০) নামের এক নারীকে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রথম পক্ষের সন্তানদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন আম্বিয়া বেগম।
গত ১৭ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে শিশু জাকিয়া আক্তার নিহা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। স্বজনদের অভিযোগ, সৎমা আম্বিয়া বেগম জোরপূর্বক শিশুটিকে সুরমা নদীতে গোসল করাতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে নিহা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সন্দেহ হয়। এ বিষয়ে ১৮ আগস্ট সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সুরমা নদীতে তল্লাশি চালায়।
পরদিন ১৯ আগস্ট সকাল ৬ টায় গৌরারং ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কাছে সুরমা নদীতে ভাসমান অবস্থায় নিহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহার মরদেহের ডান উরুর ওপরে ও নিচে দুটি গুরুতর কাটা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনাস্থলে জবানবন্দিতে আম্বিয়া বেগম শিশুটিকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতের পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় শিশুটির পিতা তাজ উদ্দিন বাদী হয়ে সৎমা আম্বিয়া বেগম ও অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে সুনামগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আম্বিয়া বেগম তার সৎ মেয়ে জাকিয়া আক্তার নিহাকে হত্যার পর বাড়ির পাশের সুরমা নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। এবং আজ আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।