বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

ছাতকে লাকেশ্বর মাদ্রাসায় ফল বিপর্যয়, এলাকায় উত্তেজনা

ছাতকে ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নের লাকেশ্বর দাখিল মাদ্রাসার ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়, মাদ্রাসায় শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদানের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব  নিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা রুমেন আহমদ অভিযোগ তুললে তার বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। 

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনাও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রুমেন আহমদের দাবি, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় লাকেশ্বর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৫২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের পাসের হার প্রায় ২৫ শতাংশ। 

তিনি এ ফলাফলকে  হতাশাব্যঞ্জক উল্লেখ করে মাদ্রাসার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রুমেন আহমদ জানান, বিষয়গুলো নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন তিনি। 

পরে ১৬ আগস্ট মাদ্রাসায় গিয়ে কয়েকজন শিক্ষকের  উপস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। তার দাবি ওইদিন সহকারী শিক্ষক শফিকুল হক দেরিতে এসে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হন। 

এছাড়া তৃতীয় শ্রেণির একটি কক্ষে শিক্ষক আবুল কাশেম মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন এবং সেখানে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় তিনি কিছু ছবি ধারণ করেন বলেও জানান।

রুমেন আহমদের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানের স্বার্থে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে শিক্ষক শফিকুল হক, রুমেন আহমদের অভিযোগকে মনগড়া দাবি করে বলেন, তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে আলোচনা না করে এসব কর্মকাণ্ড করেছেন এবং পরবর্তীতে মুরব্বিয়ানদের সিদ্ধান্তও মেনে নেননি বলেন।

তবে এব্যাপারে শিক্ষক আবুল কাশেমের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যঃ
অভিযোগের বিষয়ে লাকেশ্বর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাও. আজিজুর রহমান বলেছেন, রুমেন আহমদ মাদ্রাসায় এসে কাউকে না জানিয়ে ছবি ধারণ করেছেন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মনগড়া লেখালেখি করেছেন বলে তিনি মনে করেন।

একজন শিক্ষক অনলাইনে প্রতিষ্ঠানের কাজে নিয়োজিত থাকার বিষয়টিকে ও ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 

সুপার আরও বলেন, রুমেন আহমদের এসব অভিযোগের প্রতিবাদে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ মিছিল করেছে। 

পরে ১৭ আগস্ট সোমবার শিক্ষার্থীদের শান্ত করা এবং অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মাদ্রাসায় বসেন। 

আজিজুর রহমানের দাবি, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হলে ও রুমেন আহমদ মুরব্বিদের আলোচনার সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় সমস্যার সমাধান হয়নি।

অন্যদিকে রুমেন আহমদ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে সম্মানিত মুরব্বিয়ানরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এ ধরনের কোনো অপরাধ আমি করিনি। তাই আমি ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছি। 

উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে নেওয়া পরিকল্পিত সিদ্ধান্তে আমি সন্তুষ্ট নই। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হোক। স্থানীয় একাধিক লোক জানান, রুমেন আহমদ মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে  শিক্ষকদের গাফিলতির বিষয়টি লক্ষ্য করেন। এবং ফলাফল নিয়ে সুপার সহ শিক্ষদের সাথে কথা বলেন।

এতে শিক্ষকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্য হন। ছাত্রদের দিয়ে মিছিল করিয়েছেন তারা। শিক্ষকদের বিভিন্ন অনিয়ম-গাফিলতি ঢাকতে তারা অনেক কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে এলাকায় গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আজ সালিশ বৈঠক পরে উভয় পক্ষ পৃথক- পৃথক মিটিং করেছেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত)  মো.আনিসুর রহমান বলেন,“লাকেশ্বর দাখিল মাদ্রাসার বিষয়ে আমার কোনো কিছু জানা নেই। তবে অফিসিয়াল ভাবে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে"।

এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে আগামী বুধবার আরো একটি  শালিস বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া  হচ্ছে বলে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলাদ আহমদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিষয়টি নিয়ে এলাকার  মুরব্বিদের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে মত রয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান স্থানীয়রা।

এই সম্পর্কিত আরো