সিলেটের আধ্যাত্মিক রাজধানীখ্যাত হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তৃতীয় দফায় গণনায় পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এক মাস চার দিন পর শনিবার (১০ আগস্ট) প্রকাশ্যে দানবাক্স খোলার পর দিনভর গণনা শেষে এ অর্থের হিসাব পাওয়া যায়।
নগদ টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে ২ ভরি ১ রতি সোনা, ১ ভরি ২ আনা রুপা এবং বিশ্বের ১৯টি দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী গণনা শেষে বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য জানান।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টায় সিলগালা করা মাজারের তিনটি বড় দানবাক্স ও তিনটি মানতের ডেগ খোলা হয়। পরে প্রায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী গণনা করেন। এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দানবাক্সে পাওয়া বিদেশি মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৩১ দশমিক ১১ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৩ হাজার ২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৪ মার্কিন ডলার, ৭০ সৌদি রিয়াল, ৮৩ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ১ হাজার জাপানি ইয়েন, ১১২ কাতারি রিয়াল, ৯০ তুর্কি লিরা, ৬০ পাকিস্তানি রুপি ও ৪ ইউরো। এছাড়া নেপাল, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ভিয়েতনাম, লেবানন, মিসর, বাহরাইন ও কানাডার মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ভক্তদের নজরানা হিসেবে দেওয়া গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগিও সংগৃহীত হয়েছে।
গণনা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি দ্রুত একটি স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়ন করবে। সেই নীতিমালার আলোকে ভবিষ্যতে দানবাক্সের টাকা গণনা ও মাজারের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত জুন থেকে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়। প্রথম দফায় ২২ জুন ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। তৃতীয় দফায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়ায় আগের দুই দফার তুলনায় এবার সর্বোচ্চ অর্থ পাওয়া গেছে।