সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁও গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছে।
এ বিরোধকে ঘিরে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, গুলিবর্ষণ ও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উমরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও প্রভাবশালী নেতা জরিফ হোসেন ওরফে আছান খাঁ এবং তাঁর ভাই, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য হাজী নুর হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এবং একাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এ সংঘাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ডজন মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় কেউ কারাভোগ করেছেন, আবার অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, গুলিবর্ষণ ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পুলিশের অভিযান প্রতিহত করতে আছান খাঁ তাঁর অনুসারীদের গুলিবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত জুলাই মাসে লন্ডনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে আছান খাঁ দেশে ফেরার পর এলাকায় আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়।
এরপর তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া এবং বিভিন্ন বাড়িতে হামলা, লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। চলতি মাসেও আছান খাঁর নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট রাতে র্যাব ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আছান খাঁকে আটক করা হয়। তবে অভিযানে তাঁর কাছ থেকে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, অস্ত্রের সন্ধান ও দীর্ঘদিনের সহিংসতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হোক। এতে এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আছান খাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আটকের পর শনিবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সিকন্দরপুর পশ্চিম এলাকা থেকে আছান খাঁর পক্ষের দুই ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ আটক করে যৌথ বাহিনী।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, ২০১৩ সালে আছান খাঁর পক্ষের লোকজনের গুলিতে প্রতিপক্ষ শফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই গফফার নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে শফিকুল ইসলামকে ফাঁসাতে তাঁর পক্ষের লোক কুদ্দুসকে গুলি করে হত্যার অভিযোগও ওঠে।
এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, আছান খাকে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে । আজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।