সিলেটের ঐতিহ্যবাহী তারাপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রিংকু চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে সাইবার সন্ত্রাস ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। তথাকথিত ‘ভুঁইফোড়’ কিছু ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ও বানোয়াট ভিডিওর মাধ্যমে তার সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবস্থাপক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১১ আগস্ট বিকেলে ‘বাংলা নিউজ সিলেট’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে রিংকু চক্রবর্তী এবং মহানগর যুবদলের এক নেতার নাম জড়িয়ে জমি দখলের কাল্পনিক অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই একই পেজ থেকে রিংকু চক্রবর্তীর ছবি ব্যবহার করে জমি বিক্রির মনগড়া তথ্য দিয়ে আরেকটি ভিডিও আপলোড করা হয়। একই ধারায় ‘sylhet 9 news’ নামের অপর একটি নামসর্বস্ব পেজ থেকেও একই ধরণের কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রচার করা হয়।
ভিডিওতে যে জায়গাটিকে দখল বা বিক্রির বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে, সেটি মূলত তারাপুর চা-বাগান ও মালনিছড়া চা-বাগানের সীমান্তবর্তী বিরোধপূর্ণ এলাকা। বর্তমানে জায়গাটি মালনিছড়া চা-বাগানের দখলে রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সিলেটের বিজ্ঞ আদালতে মামলা বিচারাধীন। রিংকু চক্রবর্তী জানান, ওই জায়গায় যখন অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছিল, তখন তিনিই বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তখন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং মালনিছড়া কর্তৃপক্ষও এ নিয়ে থানায় জিডি করেছিল। অথচ সেই ঘটনার সত্যতা আড়াল করে রিংকু চক্রবর্তীকেই অভিযুক্ত সাজিয়ে ভিডিও নির্মাণ করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ‘বাংলা নিউজ সিলেট’ পেজের তথাকথিত মালিক পরিচয়দানকারী ব্যক্তির সাথে এসব বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে কথা বললে, তিনি উল্টো রিংকু চক্রবর্তীকে মুঠোফোনে হুমকি-ধমকি প্রদান করেন। যা সরাসরি ব্লাকমেইল করে চাঁদাবাজি ও চরিত্র হননের শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তারাপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রিংকু চক্রবর্তী বলেন, যে বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কতিত ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো আদালত অবমাননার শামিল। আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান ধূলিসাৎ করতে এবং বাগান পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটাতে একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে। এসব অপপ্রচারে আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই ডিজিটাল সন্ত্রাসীদের মুখোশ উন্মোচন করতে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
সিলেটের সচেতন মহল বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক কেন্দ্রিক কিছু ‘ভুঁইফোড়’ পেজ কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই মানুষের সম্মানহানি করছে। প্রশাসনের উচিত এই ধরণের সাইবার অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা, যাতে নিরাপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।