বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও সহিংসতার একাধিক মামলার আসামি। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর যেখানে শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে, সেখানে ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে। উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন কেবল প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন না, বরং তার বিরুদ্ধে উঠেছে সীমান্ত দিয়ে পলাতক নেতাকর্মীদের পারাপার এবং চোরাচালান সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মোকামবাড়ি সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় জালাল উদ্দিনের পৈতৃক নিবাস। তার বাড়ির পাশেই অবস্থিত একটি রিসোর্ট, যা মূলত তার ভাতিজা পরিচালনা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রিসোর্টটি এখন পলাতক আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের জন্য একটি ‘নিরাপদ ট্রানজিট’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জালাল উদ্দিন নিজের রাজনৈতিক প্রভাব ও সীমান্ত সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থের বিনিময়ে চিহ্নিত অপরাধীদের অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে সরাসরি সহায়তা করছেন।
জালাল উদ্দিন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমদের অনুসারী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ৫ আগস্টের পর দল বিপর্যস্ত হলেও সিলেট অঞ্চলের রাজনীতিকে অস্থির করতে জালাল উদ্দিন পর্দার আড়াল থেকে বড় অংকের আর্থিক জোগান দিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, অবৈধ চোরাচালান ও সীমান্ত বাণিজ্যের টাকা এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও জালাল উদ্দিন কীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে প্রকাশ্যে বিচরণ করছেন, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের একটি অংশকে ‘বিশেষ সুবিধায়’ ম্যানেজ করেই তিনি তার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। সীমান্ত এলাকায় তার এমন অবাধ বিচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা, সেখানে জালালের মতো চিহ্নিত অপরাধীদের দাপট আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা অবিলম্বে এই রিসোর্ট কেন্দ্রিক মানবপাচার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং জালাল উদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সচেতন মহলের মতে, জৈন্তাপুর সীমান্তে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি ও পুলিশের কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি। একজন চিহ্নিত আসামির এমন প্রকাশ্য আস্ফালন কেবল মামলার গুরুত্বই কমিয়ে দিচ্ছে না, বরং জনমনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকেও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।