সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এবার উপজেলায় মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলার সাতটি দাখিল মাদ্রাসায় পাসের হার আরও কম—৫৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এসব মাদ্রাসা থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ১৫টি বিদ্যালয় থেকে মোট ৯৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬০৬ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৩৪৯ জন।
পাসের হারে এগিয়ে গাগলি বিদ্যালয়
বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে গাগলি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাতগাঁও জীবদাড়া উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের ৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জয়কলস উজানীগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। ৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে তিনজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
চতুর্থ অবস্থানে থাকা ডুংরিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।
পূর্ব পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৬ জনের মধ্যে ১৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৫ জনের মধ্যে ৫২ জন পাস করেছে, পাসের হার ৬৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
গণিনগর ষোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৫ জনের মধ্যে ৩৮ জন এবং সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৯১ জনের মধ্যে ৬২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ দুই প্রতিষ্ঠানের পাসের হার যথাক্রমে ৬৯ দশমিক ০৯ ও ৬৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫১ জনের মধ্যে ৩৪ জন, পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৫ জনের মধ্যে ৪১ জন এবং জেবিবি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৯ জনের মধ্যে ২৪ জন পাস করেছে।
আব্দুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৯ জনের মধ্যে ১৬ জন এবং পাগলা মডেল সরকারি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৮৩ জনের মধ্যে ১০১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাগলা মডেল থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বীরগাঁও ইমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৪ জনের মধ্যে ৩২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫০ শতাংশ। সর্বশেষে রয়েছে ঈশাঁখপুর শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানের ৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪৭ দশমিক ২২ শতাংশ।
দাখিলেও হতাশাজনক ফল
শান্তিগঞ্জের সাতটি মাদ্রাসা থেকে এবার মোট ২৫৭ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪৮ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১০৯ জন। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
দাখিলে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে আক্তাপাড়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। ৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
দ্বিতীয় অবস্থানে ঘোড়াডুম্মুর হাফিজিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ৩৭ জনের মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
জামেয়া হাজী আক্রম আলী দাখিল মাদ্রাসায় ৩৯ জনের মধ্যে ২৩ জন, বীরগাঁও ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১১ জনের মধ্যে ছয়জন এবং আমরিয়া ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসায় ২৫ জনের মধ্যে ১৩ জন পাস করেছে।
দামোধরতপী মাহমুদপুর দাখিল মাদ্রাসায় ৪৬ জনের মধ্যে ২১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে উমেদনগর হযরত শাহজালাল (রহ.) দারুছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠানের ২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র পাঁচজন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
ফল খারাপের কারণ জানালেন শিক্ষা কর্মকর্তা
শান্তিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, এবার পাসের হারে শান্তিগঞ্জ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। তাঁর মতে, পরীক্ষা পদ্ধতি ও পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটে আসক্তি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে শিক্ষকদের যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়া এবং অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবও ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ।