সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে উপজেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা মিছিল ও সমাবেশ করেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে দিরাই পৌর শহরের বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে সকাল থেকে দিরাই থানা পয়েন্টসহ পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিছিল ও পাল্টা মিছিলের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে শহরজুড়ে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা পয়েন্ট, দিরাই বাজার, কলেজ রোড ও বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক নেতাকর্মীরা গত ৬ আগস্ট জুলাই স্মরণে দিরাই থানা পয়েন্টে একটি সমাবেশ করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাছির উদ্দিন চৌধুরী।
এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শনিবার বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার প্রাঙ্গণে সমাবেশের আয়োজন করেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল ও দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকের সমর্থিত নেতাকর্মীরা।
তবে এ কর্মসূচির প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার রাতে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থকরা দিরাই থানা পয়েন্টে মিছিল করেন। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিরাই থানা পয়েন্ট, দিরাই বাজার, কলেজ রোড ও বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও শনিবার সকালে থানা পয়েন্ট এলাকায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা মিছিল ও পাল্টা মিছিল করেন। পরে দুপুরে পাবেল চৌধুরী ও মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক সমর্থিত নেতাকর্মীরা বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার প্রাঙ্গণে সমাবেশ করেন।
দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা দলের ঐক্য ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন।
সমাবেশে মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, “অসুস্থ এমপি সাবকে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ও আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা ঘিরে রেখেছে। নাছির চৌধুরীর ৪০ বছরের অর্জনকে ধুলিস্যাৎ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা তা মেনে নিতে পারি না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমপি সাবের বিরুদ্ধে নই, তাকে দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট থেকে মুক্ত করে তৃণমূলের মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনতে চাই।”
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিলেন। সকাল থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। মিছিল ও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।”
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। এক পক্ষ সমাবেশ করেছে, তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘাত ঘটেনি।”