সুনামগঞ্জের ছাতকের বহুল আলোচিত হাজী মোস্তফা আনোয়ার এনাম হত্যা মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহা. হাবিবুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ছাতক পৌরসভার নোয়ারাই এলাকার মৃত নূর মিয়ার ছেলে মো. দবির হোসেন, মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মো. সিহাব মিয়া এবং দবির হোসেনের স্ত্রী আছমা আক্তার লাভলী।
রায় ঘোষণার সময় আছমা আক্তার লাভলী পলাতক ছিলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নোয়ারাই এলাকার মৃত নূর মিয়ার ছেলে মো. কবির মিয়া ওরফে মো. কবির আহমদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত সজ্জাদ আলীর ছেলে মো. আবদুর রাজ্জাক এবং মামলার অপর আসামি প্রয়াত রকিব মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ছাতক পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়ারাই এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হাজী মোস্তফা আনোয়ার এনাম ও তার পরিবারের সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২০২১ সালের ১৩ মে বিকেলে ইফতারের আগে আসামিরা লোহার রড, পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন মোস্তফা আনোয়ার এনাম।
প্রথমে তাকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২১ সালের ২০ মে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোস্তফা জুবায়ের বাদী হয়ে ২০২১ সালের ১৬ মে ছাতক থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রমাণ উপস্থাপন ও শুনানি শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন আহমেদ সোহেল। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. সালেহ আহমদ, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হামিদ এবং অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর গাফফার (২)।