টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলে আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জের মারকুলী স্টেশনেও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বুধবার প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৭৫টিতে পানি বাড়ছে, ৪৬টিতে কমছে এবং ছয়টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে অবস্থান করছে।
তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর ছাতক স্টেশনের পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। কিন্তু কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় জাফলংয়ে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬৫ মিলিমিটার এবং হরিদাসপুরে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এসব বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী একদিন সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।