সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচনা বাজারে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতি বছরে ন্যায় পঞ্জিকা অনুযায়ী আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের তিথি অনুযায়ী রথ যাত্রা শুরু হয়। আর ক্ষুদ্রপক্ষের ১১ দিন পর জগন্নাথের ফের প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে এই যাত্রা শেষ হবে। যা উল্টো রথ নামে বিখ্যাত। সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বিশ্বাস জগন্নাথের রথ যাত্রায় অংশ নিলে জীবনের যাবতীয় দুঃখ-কষ্ট দূর হয়। মানুষের জীবনে নেমে আসে অপার সুখ-শান্তি।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা থেকে সাচনা বাজার জগন্নাথ জিওর মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতনী ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী পূজা পার্বন শেষে বিকাল ৫ টায় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে রথ যাত্রা শুরু হয়ে সাচনা বাজার সহ আশপাশ এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার জগন্নাথ জিওর মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। রথ যাত্রাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে দলে দলে নানা বয়সের জগন্নাথ দেবের ভক্তদের সমাগম শুরু হতে থাকে সাচনা বাজার মন্দির প্রাঙ্গণে।
ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে মন্দির প্রাঙ্গণ সহ আশপাশ এলাকা। বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা নেচে-গেয়ে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ ধ্বনিতে মুখরিত হয় পুরো এলাকা। পাশাপাশি ধর্মীয় নারীরা উলুধ্বনি দিতে থাকে। এরিমাঝে রশি টেনে এগিয়ে যায় জগন্নাথ দেবের রথ। রাস্তার দুইপাশে শত শত মানুষ প্রত্যক্ষ করেন সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের জগন্নাথ দেবের রত যাত্রা উৎসব।
ধর্মীয় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য জামালগঞ্জ থানা পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রথ যাত্রা উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎজ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়। তিনি নিরাকার, কিন্তু লিলা উপভোগের জন্য মানবরূপে তিনি ধরাধামে আসেন। তার সমস্ত লিলাই আত্মাকৃত।
তিনি মানুষের মতো সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা উপভোগ করেন। রথ যাত্রাও এই অপ্রাকৃত লীলার অংশ। এক সময় তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হন এসময় তিনি মন্দিরে আবদ্ধ থাকেন এবং ভক্তদের দর্শন দেন না। তিনি সুস্থ হলে আরোগ্য স্নান করেন এবং সকল ভক্ত নর-নারীকে নিয়ে প্রমোদ বিহারে তার মামার বাড়িতে রওনা হন।
সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী রথ জগন্নাথ দর্শন করলে সকল পাপ থেকে মুক্ত হন। ভক্তের সকল অবিলাস পূর্ণ হয়। রথ এর রশি টানলে মানুষের জীবন সুষ্টভাবে পরিচালিত হয়। সাধারণত মন্দিরের স্থাপিত বিগ্রহ সেবায়ত ছাড়া অন্যকেউ স্পর্শ করে না। কিন্তু রথ যাত্রা ও দুল যাত্রাতে তিনি মানুষের সাথে একাকার হয়ে যান। লীলার এটি একটি অপূর্ব মাহাত্ম্য।
রথ যাত্রায় উপস্থিত ছিলেন, জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ বন্দে আলী, সাচনা বাজার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুক মিয়া, জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ ওয়ালী উল্ল্যাহ সরকার, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জগন্নাথ জিউর মন্দির কমিটির সেবায়েত পঙ্কজ ঘোষাল, সাচনা বাজার জগন্নাথ জিওর মন্দির কমিটির সভাপতি অজয় পাল চৌধুরী, সহ সভাপতি জয়বেন্দ্র পাল,অজিত চন্দ্র পাল, সুধির রায়,সীতেশ রায় চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মানিক বণিক, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমরেন্দ্র আচার্য্য শম্ভু, উপজেলা রাম কৃষ্ণ সেবাশ্রমের সভাপতি কৃপেশ বণিক, জগন্নাথ জিউর মন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক দীজরাজ পাল,সহ সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন রায়, কোষাধ্যক্ষ নান্টু বনিক, সহ কোষাধ্যক্ষ গণেশ প্রসাদ রায়, সদস্য গুণেন্দ্র চন্দ্র চন্দ, প্রমোতোষ রায়,সুমন পাল চৌধুরী, সজীব বণিক, গোবিন্দ্র দাস, বিপ্লব বণিক, বিমল সরকার ও সুবোধ তালুকদার সহ হাজারো ভক্ত বৃন্দ।