সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খানকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. সম্রাট তালুকদার।
এর একদিন আগে, বুধবার (৮ জুলাই) দৈনিক সবুজ সিলেট-এ "রক্ষক যখন ভক্ষক, ওসির রাজত্বে জিম্মি কোম্পানীগঞ্জ: চাঁদা ছাড়া ঘোরে না পুলিশের চাকা" শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে চেকপোস্টে অবৈধভাবে অর্থ আদায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ বালু-পাথর পরিবহনে চাঁদাবাজি, মামলায় অর্থ বাণিজ্য এবং জব্দকৃত যানবাহন অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে ভোলাগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে স্থাপিত পুলিশ চেকপোস্টে ট্রাকপ্রতি ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে উত্তোলিত বালু ও পাথর পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকগুলোকে ওই চেকপোস্টে অর্থ পরিশোধের পরই চলাচলের সুযোগ দেওয়া হতো।
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পণ্য ও গরু চোরাচালান, অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন, পাথর ভাঙার মেশিন, নৌকা ও ট্রলির মাধ্যমে বালু পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হতো। এছাড়া বিভিন্ন মামলার আসামিদের কাছ থেকে অর্থ বাণিজ্য, জব্দকৃত যানবাহন ছাড়িয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা গ্রহণ এবং তদন্তে অনিয়মের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে আসে।
ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি শফিকুল ইসলাম খান বলেছিলেন, পুলিশ চেকপোস্টে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা হয় এবং সিসিটিভির মাধ্যমে প্রশাসন সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলেও দাবি করেন। একই প্রতিবেদনে সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক জানিয়েছিলেন, অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।