বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

ছাতকের সৈদেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, ব্যাহত পাঠদান

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের সৈদেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনুমোদিত পাঁচটি শিক্ষকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কার্যত মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত পাঁচটি পদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি পদ শূন্য রয়েছে। অবশিষ্ট চারজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে সহকারী শিক্ষিকা ইমা দাশ ডেপুটেশনে বুড়াইগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করায় বর্তমানে বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা তিনজনে নেমে এসেছে।

এর মধ্যে একজন শিক্ষক মাওলানা কবির আহমদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। ফলে বাস্তবে দুইজন শিক্ষক দিয়েই বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ অবস্থায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। তারা দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন এবং ডেপুটেশনে যাওয়া শিক্ষকের পরিবর্তে বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ বা পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুলতানা জাহান বলেন, “সহকারী শিক্ষিকা ইমা দাশের ডেপুটেশন বা বদলির বিষয়ে আগে থেকে আমার জানা ছিল না। বর্তমানে তিনি বিদ্যালয়ে কর্মরত নেই। একদিকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ, অন্যদিকে শিক্ষক সংকট—সব মিলিয়ে বর্তমান জনবল দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।”

সহকারী শিক্ষিকা ইমা দাশ বলেন, “আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেই ডেপুটেশনে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছি এবং বর্তমানে সেখানে দায়িত্ব পালন করছি।”

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির দাতা সদস্য গয়াছ মিয়া তালুকদার বলেন, “প্রধান শিক্ষিকা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। গ্রামের মুরব্বি ও প্রস্তাবিত ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

প্রস্তাবিত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সৈয়দ সামছুল ইসলাম কয়েছ বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বার্থে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করা হবে।”

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অনুকুল চন্দ্র দাস বলেন, “বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সমস্যার বিষয়টি আগে থেকেই জানা আছে। শিক্ষক সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।”

ছাতক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান আহমদ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক তদারকি আমার দায়িত্ব। সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আশা করছি, শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।”

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়ন বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে এবং দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকটের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই সম্পর্কিত আরো