সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভবনের নির্মাণকাজ ও সরকারি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই এক পক্ষের এককভাবে ভবন দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে অপর পক্ষ প্রতিবাদস্বরূপ ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব একক সংগঠন হিসেবে পরিচালিত হলেও সাংগঠনিক মতবিরোধের জেরে পরবর্তীতে একই নামে দুটি পৃথক কমিটি গঠিত হয়। এরপর থেকেই নবনির্মিত প্রেসক্লাব ভবনের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে নির্মাণাধীন প্রেসক্লাব ভবনের কাজ এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানও ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেনি।
এ অবস্থায় একাংশের সভাপতি ও যুবলীগ নেতা সুহেল তালুকদারের নেতৃত্বে একটি পক্ষ তালা ভেঙে ভবনে প্রবেশ করে এককভাবে দখলের চেষ্টা চালায় বলে অপর পক্ষ অভিযোগ করেছে।
অভিযোগের পর অপর পক্ষের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন এবং বাজার কমিটির নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টির সামাজিক সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে সমঝোতার উদ্যোগ সফল না হওয়ায় তারা উপজেলা প্রশাসন ও শান্তিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের কয়েকদিন পরও কার্যকর কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা।
এ সময় আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এই ভবন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; এটি শান্তিগঞ্জ উপজেলার কর্মরত সকল সাংবাদিকের যৌথ সম্পদ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন এবং প্রশাসনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের আগে কোনো পক্ষের এককভাবে ভবন ব্যবহার বা দখলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল কবির বলেন, “নবনির্মিত প্রেসক্লাব ভবন উপজেলার সকল সাংবাদিকের যৌথ সম্পদ। মতপার্থক্য থাকলেও এই ভবনে সবার সমান অধিকার রয়েছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক বলেন, “নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সাংগঠনিক বিরোধের কারণে সাংবাদিকরা দুটি অংশে বিভক্ত হয়েছেন। বর্তমান বাস্তবতায় উভয় পক্ষেরই দাবি রয়েছে। তাই আলোচনার মাধ্যমে আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হওয়া প্রয়োজন। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ভবনটি সকল সাংবাদিকের সম্পদ। প্রশাসনের নিরপেক্ষ উদ্যোগেই এ বিরোধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।”
প্রতিবাদকারী সাংবাদিকদের অভিযোগ, ভবন দখলে ব্যর্থ হয়ে একটি পক্ষ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ, মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। এসব অভিযোগকে তারা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত নিষ্পত্তি এবং সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ভবনটি সকল সাংবাদিকের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল কবির, সহ-সভাপতি এম. এ. কাশেম চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম, কাজী ছাদিকুর রহমান আতিক ও মো. আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক, সহ-সাধারণ সম্পাদক খালেদ হাসান, অর্থ সম্পাদক আতিকুর রহমান রুয়েব, প্রচার সম্পাদক ছালিক আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক মান্নার মিয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক উসমান গনি, নির্বাহী সদস্য দিলীপ দাশ, আবিদ উদ্দিন, আহমদ উসমানসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।