সিলেটের কানাইঘাটে আলোচিত জাহাঙ্গীর আলম হত্যা মামলার মুল আসামী সহ ৩জনকে কক্সবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত এ ৩জনকে মঙ্গলবার (৭জুলাই) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেকের দিক নির্দেশনায় থানা পুলিশের একটি চৌকস দল টানা অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার এজহারনামীয় প্রধান আসামী উপজেলার বড়বন্দ ৩য় খন্ড গ্রামের মৃত সিকন্দর আলীর পুত্র শামীম উদ্দিন (৪৫), ২নং আসামী ডালিম উদ্দিন (৩০), বিলাল উদ্দিনের পুত্র ৪নং আসামী তারেক উদ্দিনকে সোমবার কক্সবাজার শহর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছেন।
এ মামলার অপর আরো ৩ আসামীকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য গত ১ জুলাই, কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ৩য় খন্ড গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ভায়রা ভাই ও তার সহযোগীদের হাতে নৃশংস ভাবে খুন হন একই গ্রামের মৃত মুসা মিয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (২৮) নামের এক যুবক।
পারিবারিক কলহের জের ধরে নিহত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী ২ সন্তানকে নিয়ে প্রায় ২মাস পূর্বে তার পিত্রালয় পাশর্^বর্তী বড়চতুল ইউনিয়নের কুল্লার লখাইরগ্রামে চলে যায়। জাহাঙ্গীর আলমের ভায়রা ভাই হল বড়বন্দ ৩য় খন্ড গ্রামের সিকন্দর আলীর পুত্র শামীম আহমদ। স্ত্রী ও সন্তানকে শশুড়বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন সময় শামীমের শরণাপন্ন হতেন জাহাঙ্গীর আলম।
ঘটনার দিন বিকেল ২টার দিকে একই প্রস্তাব নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম পাশর্^বর্তী ভায়রা ভাই শামীম আহমদের বাড়িতে যান। এতে সেখানে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শামীম আহমদ ও তার পরিবারের লোকজন জাহাঙ্গীর আলমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ধাওয়া দিলে সে প্রাণ রক্ষার্থে পালিয়ে যায়। এরই জের ধরে ঐদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি থেকে স্থানীয় বড়বন্দ বাজারে যাবার পথে করুণাসুন্দরী দিঘীর পাশে আসা মাত্র পূর্বে থেকে উৎপেতে থাকা ভায়রা ভাই শামীম আহমদ, তার ভাই ডালিম উদ্দিন, নাঈম উদ্দিন, ভাগ্না তারেক আহমদ ও সাহেদ আহমদ সহ কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে রক্তাক্ত আহত করে রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন আশংঙ্কাজনক অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই, আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে ৬জনের বিরুদ্ধে কানাইঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।