মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে অবস্থিত সুনছড়া ও ডবলছড়া চা বাগান এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় চা শ্রমিকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য লুট এবং বরজে থাকা পান গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে মানববন্ধন করেছেন চা শ্রমিকসহ স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে উপস্থিত চা শ্রমিকরা বলেন, বিগত সরকারের সময় সমাজে প্রভাব সৃষ্টিকারী স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাদের ছত্রছায়ায় থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রকাশ্যে অপকর্ম শুরু করেছে। বর্তমানে তারা পুরোপুরি সক্রিয়। তারাই বাগান এলাকায় বসবাসকারী চা শ্রমিক ও স্থানীয়দের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট চালিয়েছে।
চা শ্রমিকদের কয়েকজন জানান, প্রতিটি চা বাগানের কয়েক হাজার শ্রমিকের মধ্যে মাত্র কয়েকশ শ্রমিকের কর্মসংস্থান চা বাগানে। বাকিরা বিভিন্ন কৃষিকাজ বা পশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সেভাবে ডবলছড়া (সুনছড়া) চা বাগানের নন-ওয়ার্কার শ্রমিকরা নিজেদের ভিটেবাড়ির আশপাশে এবং বাগানের পতিত কিছু ভূমিতে পান ও লেবুর চাষ করে থাকেন।
স্থানীয়দের এই কৃষিপণ্য বিগত সময়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিপালিত দুর্বৃত্ত চক্র বাজারে নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখত এবং জোরপূর্বক এসব কৃষিপণ্য নেতাদের বাড়িতে বিক্রিতে বাধ্য করত। তারা সিন্ডিকেট করে পণ্যের বাজারমূল্যের এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধেক দামে সেহুলো নিয়ে নিত। চক্রের নির্দেশনা অমান্য করে অন্য কোথাও পণ্য বিক্রি করতে চাইলেই দেওয়া হতো বাধা। প্রতিবাদ করলেই হামলা ও লুটপাট।
মানববন্ধনে সর্বস্তরের চা শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা কৃষিপণ্য লুট ও পান গাছ ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চা শ্রমিক আদিবাসী ফ্রন্টের সভাপতি পরিমল বাড়াইক, শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী, ইউপি সদস্য পারতালি রাজভর, গোপাল গোয়ালা, জনক লাল দেশওয়ারা, লসমি রাজভর, চা শ্রমিক ও দলিত জনগোষ্ঠীর নেতা সুনীল মৃধা, নারী নেত্রী গীতা কানু, সীতারাম বীন এবং কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রত্যুষ ধর।
বক্তারা বলেন, কৃষকের উৎপাদিত ফসল ও কৃষিসম্পদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি এলাকার কৃষি অর্থনীতির ওপরেও আঘাত। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদনে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান শ্রমিক নেতারা।