সুনামগঞ্জ পৌর শহরে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের অপরাধে চার যুবককে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গত বুধবার দিনব্যাপী সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল ইসলাম। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘খ’ সার্কেলের একটি দল।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— শহরের বড়পাড়া এলাকার মৃত আবুল মিয়ার ছেলে হাবীব মিয়া (২১), উকিলপাড়ার মৃত হাজী আলী হায়দারের ছেলে মো. ফখরুল আলম রিংকু (৩৮), বড়পাড়ার তাজুল ইসলামের ছেলে নূর আলম (২২) এবং জামাইপাড়া এলাকার মো. নানু মিয়ার ছেলে মো. তাহমিদ উল বকস তাসিন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার পৌর শহরের বিভিন্ন মাদক স্পটে ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে ওই চার যুবককে মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ পিস ইয়াবা ও ৫ গ্রাম গাঁজা জব্দ করে ঘটনাস্থলেই তা ধ্বংস করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতাউর রহমান সজিব জানান, আটককৃতদের স্বীকারোক্তি ও অপরাধের ওপর ভিত্তি করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিক সাজা ঘোষণা করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী— হাবিব মিয়াকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড, ফখরুল আলম রিংকুকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড এবং নূর আলম ও তাহমিদ উল বকস তাসিনকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। সাজা ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
মাদক ও অপরাধমুক্ত শহর গড়তে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এমন যৌথ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।