বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় সিলেট

ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬কে সামনে রেখে ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছে সিলেট। নগর থেকে গ্রাম— সর্বত্র এখন বিশ্বকাপের আমেজ। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে বিভিন্ন দেশের পতাকা টানানো, জার্সি কেনা, টিভি ক্রয় ও খেলা দেখার নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেট নগরীর শাবিপ্রবি, সিকৃবি, এমসি কলেজ, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, মদিনা মার্কেট, সুবিদবাজার, শিবগঞ্জ, শাহপরান, উপশহর, মীরাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও সড়কের পাশে শোভা পাচ্ছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা।

বিশ্বকাপকে ঘিরে নগরীর ক্রীড়াসামগ্রীর দোকান ও ফুটপাতের অস্থায়ী স্টলগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। জার্সি, পতাকা, ক্যাপ, বাঁশি ও অন্যান্য ফুটবল সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন সমর্থকেরা। ব্যবসায়ীরা জানান, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি পর্তুগাল, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের জার্সিও বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক হারে।

শুধু ক্রীড়াসামগ্রীর বাজারই নয়, বিশ্বকাপ উপলক্ষে টেলিভিশনের বাজারেও দেখা গেছে ব্যাপক চাহিদা। নতুন টিভি কেনা ও পুরোনো টিভি মেরামতের জন্য ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্বকাপকে আরও উপভোগ্য করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) প্রশাসন শিক্ষার্থীদের জন্য ছয়টি আবাসিক হলে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেন উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে আবাসিক হলগুলোতে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

অন্যদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এলইডি মনিটরের মাধ্যমে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ একসঙ্গে বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।

ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী বলেন, আমরা খেলা দেখব, খেলা উপভোগ করব। কিন্তু খেলাকে কেন্দ্র করে এমন কোনো ঘটনা ঘটানো যাবে না, যা সমাজকে কলঙ্কিত করে। মারামারি, সংঘর্ষ কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। খেলাকে খেলাই হিসেবে দেখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

ফুটবলপ্রেমীদের মতে, বিশ্বকাপ কেবল একটি ক্রীড়া আসর নয়, এটি আবেগ ও উৎসবের নাম। রাত জেগে খেলা দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, বড় পর্দায় ম্যাচ উপভোগ এবং প্রিয় দলকে ঘিরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জমে উঠবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহোৎসব।

সিলেটের বিভিন্ন এলাকার সমর্থকদের প্রত্যাশা, এবারের বিশ্বকাপ হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উপভোগ্য। একই সঙ্গে তারা চান, খেলাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা নয়, বরং সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকুক।

বিশ্বকাপের বাঁশি বাজার আগেই সিলেটজুড়ে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে স্পষ্ট— ফুটবল জ্বরে কাঁপছে পুরো নগরী।

 

এই সম্পর্কিত আরো