সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার রক্তি নদীতে মালবাহী নৌকার সাথে হাউসবোটে ধাক্কাকে কেন্দ্র করে নৌকাতে থাকা দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আমিন মিয়া (২৩) নামে এক নৌ-শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাহফুজ মিয়া (২৮) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পর কেবিটি প্রেজেন্টস নোটিলাস হাউসবোটের মালিকসহ ৯ জনকে আটক করেছে তাহিরপুর থানা পুলিশ।
নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার আনোয়ারপুর বাজার সংলগ্ন রক্তি নদীর পাড়ে কেবিটি প্রেজেন্টস নোটিলাস হাউসবোট ও ভৈরব থেকে আসা একটি মালবাহী নৌকার মধ্যে ধাক্কা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নিহত আমিন মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের কলাপাড়া গ্রামের কালাম মিয়ার ছেলে। আহত মাহফুজ মিয়া কালাম মিয়ার সহোদর।
মালবাহী নৌকায় ঘুমিয়ে থাকা আমিন মিয়া চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে বাইরে বের হলে হাউসবোটের লোকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। হামলার একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হয়ে নদীতে পড়ে যান। একই ঘটনায় তাঁর চাচা মাহফুজ মিয়াও গুরুতর আহত হন।
নিহতের বাবা কালাম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, হাউসবোটের ১০ থেকে ১৫ জন লোক আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমার ছেলেকে মারধর করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে হাউসবোট মালিকের নির্দেশে আমাকে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। মুক্তি পাওয়ার পর আমি ছেলেকে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পাইনি।
পরে থানায় ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং মাহফুজ মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একজন নৌ-শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে তাহিরপুর থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। নিহতের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।