মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী - গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে সিলেটে স্কুল ক্রিকেটে সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চবিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন ওসমানীনগরে সামাদ হত্যা: ২ ‘খুনি’কে নারায়ণগঞ্জ থেকে ধরল র‍্যাব বড়লেখায় পুলিশের জালে ‘ভুয়া এএসপি’ জকিগঞ্জে সকালে নিখোঁজ গৃহবধূ, সন্ধ্যায় নদীতে মিললো লাশ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাস খাদে পড়ে নারী ও শিশুসহ ঝরল ৪ প্রাণ ওসমানীনগরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে কুপাল জামাতা, আটক ১ ৪৮০০ মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার দাবি শুভেন্দুর রাতে একই জায়গায় ৩ বার ভূমিকম্প, কাঁপল সিলেটও ওসিসহ আহত অর্ধশত - চেয়ারম্যানের পদ সংঘর্ষে জড়াল বিএনপি-আ.লীগ সমর্থকেরা
advertisement
সিলেট বিভাগ

বিয়ানীবাজারে রুপকের রহস্যজনক মৃত্যু: নয়দিনেও মেলেনি হত্যার ক্লু

বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার খাসাড়িপাড়া গ্রামের সাদিকুল ইসলাম রুপকের (২৭) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রশ্ন, সংশয় এবং জনমনে ক্ষোভ। ঘটনার নয়দিনেও হত্যার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় এলাকাবাসী, স্বজন এবং সচেতন মহলের মধ্যে একটি প্রশ্নই বারবার ফিরে আসছে- রুপকের মৃত্যু কি সত্যিই আত্মহত্যা? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও ভয়াবহ কোনো সত্য? হত্যার রহস্য উদঘাটন না হওয়াটাকে কেউ কেউ পুলিশের ব্যর্থতা বলে ইঙ্গিত করেছেন। শুক্রবার রাত্রে খাসাড়িপাড়া গ্রামবাসীর একসভা থেকে শতাধিক মানুষ বিয়ানীবাজার থানা ঘেরাও করে পুলিশের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তোলেন। ৩১ মে দুপুরে সাদিকুল ইসলাম রুপকের মৃতদেহ তার বসতঘর থেকে উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত এবং উদ্বেগজনক দিক হলো, সাদিকুল ইসলাম রুপকের ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও তার দুই হাতের কব্জি পিছনে শক্তভাবে বাঁধা ছিল বলে জানা যায়। সাধারণ অভিজ্ঞতা এবং প্রাথমিক যুক্তি অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিক মৃত্যুর ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এ কারণেই ঘটনাটি শুরু থেকেই এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রুপকের স্ত্রী ও সন্তানরা আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাতের একটি নির্দিষ্ট সময়ে রুপকেরও সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পরও তিনি পৌঁছাননি। উদ্বিগ্ন পরিবার তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।

পরিবারের সদস্য যখন হঠাৎ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যান, নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছান না এবং পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন, তখন তদন্তের স্বার্থে প্রতিটি মিনিট, প্রতিটি কল রেকর্ড এবং প্রতিটি গতিবিধি গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা জরুরি হয়ে ওঠে। পুলিশ প্রশাসন এসবের কিছু কি উদঘাটন করতে পেরেছে? নাকি সকল আলামত কৌশলে মুছে ফেলার আয়োজন চলছে এলাকাবাসীর প্রশ্ন।

ঘটনার মুল প্রশ্ন এখানেই। যদি এটি আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তাহলে দুই হাত পিছনে শক্তভাবে বাঁধা অবস্থার ব্যাখ্যা কি হতে পারে? যদি বাঁধনটি স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেই প্রক্রিয়ার ফরেনসিক প্রমাণ কোথায় যোগাড় করা পুলিশের দায়িত্ব। যদি অন্য কেউ বাঁধন দিয়ে থাকে, তবে সেই ব্যক্তি কে? গিঁটের ধরন, দড়ির অবস্থান, কব্জিতে চাপের চিহ্ন, দড়িতে থাকা ডিএনএ এবং আঙুলের ছাপ- এসব প্রশ্নের উত্তরই এই রহস্যের কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

তদন্তের সামনে যে কঠিন প্রশ্নগুলো দাঁড়িয়ে আছে রুপকের আসল খুনি কে বা কারা?

রুপকের মৃত্যুকে ঘিরে এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর অজানা। বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে এটুকু স্পষ্ট যে ঘটনাটি সাধারণ, সরল এবং সন্দেহমুক্ত কোনো মৃত্যু হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো পর্যায়ে নেই। সুরতহাল প্রতিবেদন থেকে শুরু করে মৃতদেহ উদ্ধার আলামত, অবস্থান, দড়ি-রশি, পরণের কাপড়, ঘটনাকালে এই ঘরে অন্যদের অবস্থান, জুতা বালুতে অন্যদের পায়ের চাপের ডিএনএ যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ডিজিটাল প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত না হচ্ছে। ততক্ষণ পর্যন্ত রুপকের মৃত্যুর রহস্য অমীমাংসিতই থেকে যাবে। আর সেই অমীমাংসিত প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে একটি বিষয়- দুই হাত পিছনে শক্তভাবে বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত এক মানুষের মৃত্যু আসলে কীভাবে ঘটল? 

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে মনে হচ্ছে।পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট ও তদন্তে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে।

এই সম্পর্কিত আরো