সিলেটের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক ও কিংবদন্তি ঘেরা জনপদ জৈন্তাপুর। প্রাচীন জৈন্তা রাজ্যের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এই অমিত সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকাটি চরম অবহেলা আর অযত্নে পড়ে ছিল।
গত ২৩ মে জনপ্রিয় আঞ্চলিক দৈনিক ‘সবুজ সিলেট’ পত্রিকায় “জৈন্তাপুরের রূপ আছে, নেই যত্ন” শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সংবাদটি সরাসরি নজরে আসে সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর। এরই ধারাবাহিকতায় এবার অবহেলার মেঘ কেটে জৈন্তাপুরের আকাশে বইছে সম্ভাবনার নতুন হাওয়া। উপজেলার ঐতিহাসিক রাজবাড়ীকে আধুনিক জাদুঘরে রূপান্তর এবং পর্যটকদের সুবিধার্থে একটি আধুনিক 'পর্যটন সার্ভিস সেন্টার' চালুর মেগা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই যুগান্তকারী ঘোষণা দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে সিলেট-৪ আসনের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ীকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক জাদুঘরে রূপান্তর করা হবে। এর ফলে প্রাচীন জৈন্তা রাজ্যের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারব।’
মন্ত্রী আরও জানান, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকা নিয়ে যে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে খুব দ্রুত একটি আধুনিক ‘পর্যটন সার্ভিস সেন্টার’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এই অঞ্চলের দর্শনীয় স্থানগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য ও ওয়ান-স্টপ সেবা পাবেন। এর পাশাপাশি নবগঠিত জৈন্তাপুর পৌরসভার সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিজে জৈন্তাপুরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ও প্রাকৃতিক পর্যটন স্পটগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্পটগুলোর উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে শতভাগ কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এদিকে গণমাধ্যমের খবরের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের এমন দ্রুত ও ইতিবাচক পদক্ষেপে আনন্দিত পুরো জৈন্তাপুরবাসী। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গণমাধ্যমে জৈন্তাপুরের দীর্ঘদিনের সমস্যা, অবহেলা ও সম্ভাবনাগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে উঠে আসার কারণেই আজ এত বড় একটি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। দৈনিক সবুজ সিলেটের এই দায়িত্বশীল অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জৈন্তাপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।