হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্যস্ততম এলাকা আউশকান্দি কিবরিয়া চত্বরে (স্কয়ার) জায়গা কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন এক লন্ডন প্রবাসী। কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি নিজের নামে ক্রয় এবং নামজারি (মিউটেশন) করার পরও কতিপয় চাঁদাবাজের কারণে নিজের জায়গার দখল পাচ্ছেন না তিনি। উল্টো ২০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার শিকার হয়ে এখন প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই প্রবাসী।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতভর হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালালেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
জানা যায়, আউশকান্দি মৌজার বাসিন্দা নজিম উল্লাহ স্ত্রী লন্ডন প্রবাসী রাশেদা বেগম তার কাবিনমূলে প্রাপ্ত ২৭ শতক জায়গা নবীগঞ্জ পৌর শহরের স্কাইলাইট টাওয়ারের বাসিন্দা, অপর লন্ডন প্রবাসী মোহন মিয়ার কাছে বিক্রি করেন। উক্ত জায়গার উপর ১২টি দোকানকোঠা বিশিষ্ট একটি টিনশেড মার্কেট রয়েছে। এই মার্কেটের দেখাশোনা ও ভাড়া আদায়ের দায়িত্বে কেয়ারটেকার হিসেবে ছিলেন আউশকান্দি গ্রামের আব্দুল জব্বার ও আবুল খায়ের।
অভিযোগ উঠেছে, মার্কেটটি বিক্রি হওয়ার পর থেকেই আব্দুল জব্বার ও আবুল খায়ের সাবেক মালিক রাশেদা বেগম এবং বর্তমান ক্রেতা মোহন মিয়ার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। প্রবাসী মোহন মিয়া এই অবৈধ টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করে।
ভুক্তভোগীরা জানান, কয়েকদিন পূর্বে লন্ডন প্রবাসী মোহন মিয়া আউশকান্দি বাজারে এলে আব্দুল জব্বারের ছেলে তানজিদ ও আবুল খায়েরের ছেলে তোফায়েলসহ একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে। মোহন মিয়া কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে গিয়ে নবীগঞ্জ থানায় আশ্রয় নেন। বর্তমানে উক্ত মার্কেটটি আব্দুল জব্বার ও আবুল খায়েরের লোকজন জোরপূর্বক অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।
এই ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে (এসপি) জানানো হলে তাঁর নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের ওসি শামীম হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লন্ডন প্রবাসী মোহন মিয়া বলেন, ‘আমি প্রবাসী, একজন নিরীহ মানুষ। জীবনের সমস্ত উপার্জন দিয়ে হালাল টাকায় জায়গা ক্রয় করে এখন চরম বিপদে আছি। চাঁদাবাজরা অবৈধভাবে আমার মার্কেট দখল করে রেখেছে। তাদের ২০ লক্ষ টাকা না দিলে তারা আমাকে খুন করার হুমকি দিচ্ছে। আমি এখন নিজের জানের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও আমার সম্পত্তি উদ্ধারের জোর দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের ওসি শামীম হাসান জানান, ‘অপরাধীদের ধরতে আমাদের তৎপরতা এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই কাউকে অবৈধভাবে মার্কেট বা সম্পত্তি দখল করে রাখতে দেওয়া হবে না।’
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা এই অবৈধ দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা রেকর্ড করেছি। তবে আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকায় এই মুহূর্তে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। আইনগতভাবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’