নিউইয়র্কে এক অনন্য ইতিহাস গড়লেন বিয়ানীবাজারের কৃতি সন্তান ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতি, ব্যবসা, সমাজসেবা ও কমিউনিটি নেতৃত্বে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একসাথে ২৫টি সম্মাননা লাভ করেছেন তিনি। এই বিরল অর্জনে উচ্ছ্বসিত পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি।
ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর শহরের খাসাড়ী পাড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার মরহুম হাজী তাহির আলীর সুযোগ্য পুত্র। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়ন, যুবসমাজকে সংগঠিত করা, ব্যবসায়িক নেতৃত্ব এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।
বর্তমানে তিনি একাধারে এবি মিডিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচালিত অন্যতম বৃহৎ জামে মসজিদ জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির অন্যতম সদস্য, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, আমেরিকান বাংলাদেশ বিজনেস অ্যালায়েন্সের সভাপতি, এনআরবি ওয়ার্ল্ডের সদস্য এবং ইউএস বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত শুক্রবার নিউইয়র্কের সাউথ ইস্ট কুইন্সের ঐতিহ্যবাহী ও সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন “গাই আর ব্রুয়ার বুলেভার্ড ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ক্লাব”-এর ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তাকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো কোনো সাউথ এশিয়ান ব্যক্তিকে এ ধরনের সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পক্ষ থেকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন ইউএস সিনেটর চাক শুমার, সিনেটর কার্স্টেন জিলিব্র্যান্ড, কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিকস, কংগ্রেসউইম্যান গ্রেস মেং, গভর্নর ক্যাথি হকুল ও স্টেট এটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস সহ ২৫ জন নির্বাচিত মার্কিন জনপ্রতিনিধি যৌথভাবে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করেন। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ড. জিম ফিলিপ এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সম্মাননাগুলো তুলে দেন।
জানা যায়, নব্বইয়ের দশকে নিউইয়র্কের জ্যামাইকা এলাকায় অপরাধ ও বিশৃঙ্খলানিয়ন্ত্রণে তরুণ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার অত্যন্ত সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বন্ধুদের নিয়ে তিনি যুবসমাজকে সংগঠিত করেন এবং কমিউনিটির নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার সেই ঐতিহাসিক ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে কংগ্রেসউইম্যান গ্রেস মেং তাকে “কংগ্রেশনাল প্রোক্লেমেশন” প্রদান করেন এবং দিনটিকে “ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার ডে” হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারের এই ঐতিহাসিক অর্জন শুধু একজন ব্যক্তির সম্মাননা নয়, এটি পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্ব, মর্যাদা ও সম্মানের এক উজ্জ্বল মাইলফলক। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন বাংলাদেশির এমন স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবে। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করেছে, সততা, নেতৃত্ব, পরিশ্রম ও কমিউনিটির প্রতি ভালোবাসা থাকলে বিশ্বমঞ্চেও বাংলাদেশিদের অবস্থান আরও শক্তিশালী ও সম্মানজনকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।