মাটির গভীরে এখনো যেন প্রতিধ্বনিত হয় তেলের অস্তিত্বের ইঙ্গিত, অথচ ওপরে বিরাজ করছে দীর্ঘদিনের অবহেলা আর উদাসীনতার চিত্র। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলী এলাকায় প্রায় ৭৫ বছর ধরে সম্ভাবনাময় একটি তেলক্ষেত্র কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ উদ্যোগ ও আধুনিক অনুসন্ধান কার্যক্রমের মাধ্যমে এই খনিজ সম্পদ দেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৩৭ সালে কাঁঠালতলী এলাকায় তেলের সন্ধানে একটি কূপ খনন করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে খনিজ সম্পদের অস্তিত্বের ইঙ্গিত মিললেও পরবর্তীতে বার্মা অয়েল কোম্পানি রহস্যজনকভাবে কূপটির মুখ সিলগালা করে দেয়। এরপর আর কোনো কার্যকর অনুসন্ধান বা উত্তোলন কার্যক্রম চালানো হয়নি।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, কূপ খননের সময় এলাকায় ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁদের দাবি, আজও ওই এলাকার মাটির গভীর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ ও আলোড়নের মতো কিছু অনুভূত হয়, যা ভূগর্ভে তেলের অস্তিত্বের ইঙ্গিত বহন করে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানও একসময় কাঁঠালতলী এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন এবং তেল অনুসন্ধান কার্যক্রমে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর পর সেই উদ্যোগ আর বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সম্ভাবনাময় এই খনিজ সম্পদ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জরিপের মাধ্যমে কাঁঠালতলী এলাকায় নতুন করে অনুসন্ধান চালানো হলে এখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এতে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এ এলাকায় আধুনিক জরিপ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে সম্ভাবনাময় এই সম্পদ কাজে লাগাতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।