সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

হাওরাঞ্চলে কমছে পুষ্টিহীনতা, বাড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

হাওরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পুষ্টিহীনতা দূর করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পেয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি কমছে ঝরে পড়ার হারও।

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এবং শিশুদের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আর খাদ্য ও শিক্ষার সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করেছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি।

২০২৬ সালের ২৬ মার্চ থেকে চালু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ১৪ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে।

সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের তালিকায় রয়েছে— রবিবার বনরুটি (১২০ গ্রাম) ও সিদ্ধ ডিম (৬০ গ্রাম), সোমবার বনরুটি (১৬০ গ্রাম) ও ইউএইচটি দুধ (২০০ গ্রাম), মঙ্গলবার ফোর্টিফাইড বিস্কুট (৭৫ গ্রাম) ও মৌসুমি কলা (১০০ গ্রাম), বুধবার ও বৃহস্পতিবার বনরুটি (১২০ গ্রাম) ও সিদ্ধ ডিম (৬০ গ্রাম)।

জামালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালিন জানায়, আগে অনেক সময় না খেয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হতো। টিফিনের জন্য বাবার কাছ থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা নিয়ে সিঙ্গারা বা বিস্কুট খেতেও পেট ভরত না। এখন স্কুলে বনরুটি, দুধ ও ডিম পাওয়ায় ক্ষুধা মিটে যায় এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে পরিবারেরও খরচ কমেছে।

অভিভাবক আব্দুস সালাম বলেন, “সবসময় বাচ্চাদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। স্কুলে খাবার দেওয়ায় আমরা অনেকটা নিশ্চিন্ত। এতে বাচ্চারা নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও বাড়ছে।”

দক্ষিণ কামলাবাজ সাফিজ উদ্দিন সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন বলেন, “আগে শিক্ষার্থীরা ক্ষুধার কারণে দ্রুত ছুটির জন্য তাড়া দিত। দুপুরে বাড়ি গিয়ে অনেকেই আর বিদ্যালয়ে ফিরতো না। এখন সপ্তাহে পাঁচ দিন স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় খাবার দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অবস্থান করছে এবং উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বৈশাখ মাসেও বিদ্যালয়ে প্রায় ৯৫ শতাংশের বেশি উপস্থিতি থাকে। আগে যারা অনিয়মিত ছিল, তারাও এখন নিয়মিত আসছে। শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে এ কর্মসূচি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পীযূষ কান্তি মজুমদার জানান, জামালগঞ্জ উপজেলার ১২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবগুলোই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় এসেছে। এ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, “পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থার উন্নয়ন ঘটছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ৯০ শতাংশের ওপরে এবং ঝরে পড়ার হার কমেছে। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তির হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।”

এই সম্পর্কিত আরো