সিলেটের সাংবাদিকতার ইতিহাস সমৃদ্ধ ও গৌরবময়। এই দীর্ঘ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো। বিভিন্ন সময়ে সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার নানা চেষ্টা হলেও সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়ে সব ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানেও সেই ঐক্য অটুট রয়েছে এবং সাংবাদিক সমাজ যে-কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর।
গতকাল শনিবার বিকেলে সুধীজনদের সঙ্গে মতবাদ সভায় বক্তারা এ কথাগুলো বলেন।
নগরের জিন্দাবাজারে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা) মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় বক্তারা বলেন, সিলেটের সাংবাদিকতার এই সমৃদ্ধ ধারাবাহিকতায় দৈনিক সবুজ সিলেট একটি উজ্জ্বল নাম। সিলেটের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গত দুই দশক ধরে পত্রিকাটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও যুগের চাহিদা ও পাঠকের প্রত্যাশা পূরণে পত্রিকাটি আরও সমৃদ্ধ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দৈনিক সবুজ সিলেট-এর দুই দশকে পদার্পণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পত্রিকাটির উপসম্পাদক আ. ফ. ম. সাঈদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক লিয়াকত শাহ ফরিদী, সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি এম এ হান্নান, সহসভাপতি মো. ফয়ছল আলম, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সংগ্রাম সিংহ, ইমজার সাবেক সভাপতি সজল ছত্রী, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলজার আহমদ হেলাল, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, দৈনিক সংবাদের জেলা প্রতিনিধি আকাশ চৌধুরী, বৈশাখী টেলিভিশনের সিলেট বিভাগীয় প্রধান ও সিনিয়র সাংবাদিক এস সুটন সিংহ, দৈনিক শ্যামল সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার ও একুশে সিলেটের সম্পাদক নিজাম উদ্দিন টিপু, ভিজ্যুয়াল মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল ইসলাম এবং এলিগ্যান্ট মার্কেট ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সবুজ সিলেট-এর কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি মইন উদ্দিন মিলন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন দৈনিক সবুজ সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার আনিসুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিলাল উদ্দিন শিপু। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ প্রতিনিধি তজুম্মুল আলী রাজু এবং নবীগঞ্জ প্রতিনিধি এম এ আহমদ আজাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিএনপি মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। বর্তমানে গণমাধ্যমে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা প্রকাশের সুযোগ গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রতিফলন। তিনি বলেন, দৈনিক সবুজ সিলেট শুরু থেকেই সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। সিলেটের উন্নয়ন, রাজনীতি ও সামাজিক অগ্রগতিতে পত্রিকাটির অবদান রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির তাঁর বক্তব্যে সবুজ সিলেট কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো কর্মকাণ্ড সিলেটের সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না।
লিয়াকত শাহ ফরিদী বলেন, সিলেটের সাংবাদিকতায় সবুজ সিলেট গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ পত্রিকায় অতীতে যেমন দক্ষ সাংবাদিকরা কাজ করেছেন, এখনও করছেন। ভবিষ্যতেও পত্রিকাটি আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসএ টিভির স্টাফ ক্যামেরাপার্সন ও সবুজ সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার বদরুর রহমান বাবর, স্টাফ ফটোগ্রাফার তারেক চৌধুরী রাহেল, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি শাহীন আলম সাহেদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি সামসুল কাদির মিছবাহ, বালাগঞ্জ প্রতিনিধি এস এম হেলাল, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি মীর শোয়েব আহমদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ইমন দেব চৌধুরী, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি জয়নাল আবেদিন, শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি সামিউল কবির, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি মুকিম উদ্দিন এবং কানাইঘাট প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের মোস্তাক আহমদ।