শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সাবেক সহকারী অধ্যাপক ড. এম. মুজিবুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) সদস্য পদে গ্রেড-২ পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক না রাখার শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য এ নিয়োগ কার্যকর হবে। এনএসডিএর সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
ড. এম. মুজিবুর রহমান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামপাশা গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর এ নিয়োগে জন্মভূমি বিশ্বনাথ ও যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ক্ষেত্রে ড. মুজিবুর রহমানের ৩০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (টিভিইটি), কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স এবং ইনস্টিটিউশনাল গভর্ন্যান্সে তিনি কাজ করেছেন।
তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক এবং সাস্ট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কো-কনভেনর। তাঁর শিক্ষাজীবনে বিএসসি (অনার্স) ও মাস্টার্সে কৃতিত্বের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জনের কথা জানা গেছে। এছাড়া নটিংহাম ও বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টগ্র্যাজুয়েট গবেষণাও করেছেন।
যুক্তরাজ্যে ভোকেশনাল এডুকেশন ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে তাঁর বাস্তব ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা উন্নয়ন, নীতিনির্ধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।
ড. মুজিবুর রহমান দুই সন্তানের জনক। তাঁর বড় ছেলে সাইমুর মুজিব রহমান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএ অনার্স সম্পন্ন করেছেন। ছোট ছেলে রাফি মুজিব রহমানও এ লেভেলে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
ড. এম. মুজিবুর রহমানের নতুন দায়িত্ব দেশের দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।