শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
সিলেটের জৈন্তাপুরে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু, স্বজনের খোঁজে পুলিশ মালয়েশিয়ায় পল্টন থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম আব্বাসকে সংবর্ধনা পৌর চেয়ারম্যান থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ‘নিয়ম রক্ষার নির্বাচন’ নয়: চিফ হুইপ হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সতর্কবার্তা শালীনতা ও আদর্শের রাজনীতিতে অনন্য মির্জা ফখরুল জিপিএ-৫ পেয়েছে অরিত্রি, হতে চায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ইন্দোনেশিয়ায় আবার ফেরিতে আগুন, যাত্রী ছিলেন ১১৪ বিশ্ববাজারে কমলো রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের মানববন্ধন
advertisement
সারাদেশ

পৌর চেয়ারম্যান থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল

একসময় শিক্ষকতা করতেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পাশাপাশি মঞ্চে উঠতেন তিনি। করতেন অভিনয়, যুক্ত ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ নানা খেলাধুলায়। ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে ছিলেন সক্রিয়। এরপর পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের মুখপাত্র এবং শেষ পর্যন্ত বিএনপি মহাসচিব।

জীবনের প্রতিটি অধ্যায় পেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন দাঁড়িয়ে আছেন আরও বড় এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সামনে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা থাকলেও রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। কারণ, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একমাত্র মনোনীত প্রার্থী তিনি।

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে এমন খবরে জেলার মানুষ অনেক খুশি। এই খুশির আনন্দ শুধু দলীয়ভাবে সীমাবদ্ধ নয়। ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝেও। মহল্লায় মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ হচ্ছে জেলাজুড়ে। ধনী, গরীব, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ সবার মাঝেই উল্লাস আর উল্লাস।

নাট্যমঞ্চ থেকে রাজনীতির মঞ্চ

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের গল্প শুধু দলীয় পদ-পদবি কিংবা নির্বাচনী রাজনীতির নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চা, শিক্ষকতা এবং ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা।

ছাত্রজীবনেই তিনি নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। সেই সময়ের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তার ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে। পরে রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায়ও তার মধ্যে সংস্কৃতিমনস্কতার ছাপ থেকে যায়। এছাড়া ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও অনেক নাম রয়েছে মির্জা ফখরুলের।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী ও একাধিকবারের সংসদ সদস্য। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি শৈশব-কৈশোর থেকেই সমাজ ও সংস্কৃতি, খেলাধূলাসহ নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান তিনি।

ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে অর্জন করেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।

মির্জা ফখরুলই হলেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী

ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রইউনিয়নের সদস্য হিসেবে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময়ে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একদিকে নাট্যমঞ্চ, অন্যদিকে রাজনীতির উত্তাল রাজপথ-দুই ভিন্নজগতের অভিজ্ঞতা নিয়ে গড়ে উঠতে থাকেন তরুণ মির্জা ফখরুল।

শিক্ষকতা থেকে সক্রিয় রাজনীতি

শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নিয়ে ১৯৮৭ সালে শিক্ষা বিভাগের অডিট সেকশনের পরিচালক হয়ে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন তিনি।

পরাজয় পেরিয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও থেমে যাননি মির্জা ফখরুল। ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি হারালেও জাতীয় রাজনীতিতে তার ভূমিকা থেমে থাকেনি। ২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর দলটির অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবে রাজপথ ও গণমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও দলকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ঠাকুরগাঁও রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুবিন রতন সমকালকে বলেন, ‘১৯৮৭ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের ছাত্র ছিলাম। মির্জা ফখরুল ইসলাম স্যার অর্থনীতি বিষয়ে ক্লাশ নিতেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। অনেক মনোযোগ দিয়ে পড়াতেন। স্যারের ক্লাসে পড়লে সে বিষয়ে আর বাড়িতে পড়তে হতো না। অত্যন্ত সৎ ও ভদ্র মানুষ ছিলেন তিনি। সহজে কারও ওপর রাগ করতেন না।’

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে জানান, ‘আলমগীরের সঙ্গে শৈশব-কৈশোর একসঙ্গে কেটেছে। সে অনেক মেধাবী ছিল। শিক্ষকতার পাশাপাশি নাটকের মঞ্চে অভিনয় করত। খেলাধুলার সংগঠক হিসেবে কাজ করত। রাজনীতিতেও বেশ সক্রিয় ছিল ছোটবেলা থেকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আলমগীর বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে চলেছে; বুকটা গর্বে ভরে যাচ্ছে। সে যে এমন জায়গায় পৌঁছাবে সেটা কিন্তু তার চালচলনে বুঝা যেত। তার মাঝে কোনো গৌরব ছিল না। ধনী গরীবের ভেদাভেদ ছিল না। ধর্মীয় বিষয়ে কোনো বিভক্তি ছিল না। পূজার সময় আমাদের বাড়িতে আসত। এক কথায় আলমগীরকে না খাইয়ে আমরাও খেতাম না। আলমগীর আগে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ থাকলেও সে দেশের সর্বোচ্চ স্থানে যেতে চলেছে। তার জন্য শুভকামনা।’

এই সম্পর্কিত আরো

সিলেটের জৈন্তাপুরে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু, স্বজনের খোঁজে পুলিশ

মালয়েশিয়ায় পল্টন থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম আব্বাসকে সংবর্ধনা

পৌর চেয়ারম্যান থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ‘নিয়ম রক্ষার নির্বাচন’ নয়: চিফ হুইপ

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সতর্কবার্তা

শালীনতা ও আদর্শের রাজনীতিতে অনন্য মির্জা ফখরুল

জিপিএ-৫ পেয়েছে অরিত্রি, হতে চায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

ইন্দোনেশিয়ায় আবার ফেরিতে আগুন, যাত্রী ছিলেন ১১৪

বিশ্ববাজারে কমলো রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম

সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের মানববন্ধন