বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
চা জনগোষ্ঠী যুব উন্নয়ন ফোরাম-এর উদ্যোগে বাজার লাইনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সবুজ সিলেটে প্রতিবেদন, পরদিনই অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার অনলাইন জুয়ায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল, নতুন আইন পাস স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি: সংসদে মির্জা ফখরুল আশ্বাস নয়, রোডম্যাপ চাই: দশম দিনের অবরোধে সুনামগঞ্জ মেডিকেল শিক্ষার্থীরা নগরীর বুকেই মাদকের 'হটস্পট'! রাতভর জমে অন্ধকার বাণিজ্য খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছে জামায়াতের প্রতিনিধিদল আরও কমলো তেলের দাম ব্রাজিলের ম্যাচ চলাকালে লোডশেডিং: ক্ষোভে বিদ্যুৎ অফিস ভাঙচুর জানাজায় মুসল্লির ঢল - কানাইঘাটে পাঁচ প্রবাসীকে অশ্রুসিক্ত বিদায়
advertisement
অর্থ-বাণিজ্য

মুদ্রানীতি ঘোষণা: রেপো সুদহার ১০ শতাংশেই বহাল, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা

এ লক্ষ্যে নীতিগত (রেপো) সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের ধীরগতি এবং শিল্প উৎপাদনে মন্দাভাব কাটিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে শিল্প, কৃষি ও কুটির, ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই) খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‎মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

‎বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গত প্রায় দুই বছর ধরে অনুসৃত কঠোর মুদ্রানীতির ফলে ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল মিলতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যেখানে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৭ শতাংশে উঠেছিল, তা ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় আপাতত নীতিগত সুদহার কমানোর সুযোগ দেখছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‎মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করা। তবে একই সঙ্গে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রকৃত বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

‎রেপো, এসএলএফ ও এসডিএফে পরিবর্তন নেই

‎নতুন মুদ্রানীতিতে নীতিগত রেপো সুদহার ১০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রাখা প্রয়োজন।

‎অর্থনীতি এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে

‎মুদ্রানীতিতে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘ভঙ্গুর পুনরুদ্ধারের পর্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অর্থনীতি এখনও কম প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে ধীরগতি, কর্মসংস্থানের চাপ, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।

‎বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত জ্বালানি ও সারের আন্তর্জাতিক সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে আমদানি ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশে ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‎শুধু সুদহার বাড়ালেই মূল্যস্ফীতি কমবে না

‎বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতিতে স্বীকার করেছে, বর্তমান মূল্যস্ফীতির বড় অংশই অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সৃষ্টি হয়নি। বরং সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজার ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে।

‎এ কারণে কেবল সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে বড় ধাক্কা।

‎মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, কঠোর আর্থিক নীতি, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৬ সালের মে মাস শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৫ শতাংশে।

‎এদিকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং সরকারের ঋণ গ্রহণের চাপের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে উদ্বৃত্ত তারল্যের একটি বড় অংশ উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে না গিয়ে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

‎৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা:

‎অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই প্যাকেজ মূলত শিল্প, কৃষি এবং সিএমএসএমই খাতকে লক্ষ্য করে বাস্তবায়ন করা হবে।

‎এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উৎপাদন খাতে নতুন গতি ফিরে আসবে।

‎বৈদেশিক খাতে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার

‎বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাজারনির্ভর নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে রপ্তানির প্রতিযোগিতা বাড়ানো, প্রবাসী আয় প্রবাহ উৎসাহিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

‎কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, একটি বাস্তবসম্মত বিনিময় হার অর্থনীতিতে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করে।
‎ব্যাংকিং খাতে বড় সংস্কারের ইঙ্গিত:

‎মুদ্রানীতিতে ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে অন্যতম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উচ্চ খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নিরীক্ষা, নতুন ঋণ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে।

‎নতুন ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬ এবং ডিপোজিট প্রোটেকশন আইন-২০২৬ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করা হবে।

‎একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী এক্সপেকটেড ক্রেডি লস (ইসিএল) পদ্ধতি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি আরও কার্যকর করা হবে।

‎খেলাপি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন আইন

‎বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (ডামা) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো করদাতার অর্থ ব্যবহার না করেই খেলাপি সম্পদ পৃথকভাবে ব্যবস্থাপনার সুযোগ পাবে।

‎এছাড়া অর্থঋণ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে ঋণ আদায়ের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎ডিজিটাল লেনদেনে 'বাংলা কিউআর'

‎ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক 'বাংলা কিউআর'-কে দেশের সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট মান হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এর মাধ্যমে সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একই কিউআর কোড ব্যবহার করে লেনদেন করা সম্ভব হবে। এতে গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‎বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বড় ঝুঁকি:

‎মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। এসব কারণে টাকার বিনিময় মূল্য কমেছে, আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সক্ষমতার নিচে নেমে এসেছে।

‎এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাৎক্ষণিক সংকট থেকে রক্ষা করতে আমদানিকারকদের ঋণ পরিশোধে সময় বাড়ানোর মতো কিছু নিয়ন্ত্রক সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

‎সরকারের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যের সঙ্গে সমন্বয়:

‎বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন মুদ্রানীতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকার চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, রাজস্ব নীতির সহায়তা, লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ কর্মসূচি এবং ধীরে ধীরে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব।

‎তবে একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট, ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ে জনমানুষের প্রত্যাশা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বৈদেশিক খাতের চাপ আগামী মাসগুলোতে অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে থাকবে বলেও মুদ্রানীতিতে সতর্ক করা হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরো

চা জনগোষ্ঠী যুব উন্নয়ন ফোরাম-এর উদ্যোগে বাজার লাইনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

সবুজ সিলেটে প্রতিবেদন, পরদিনই অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

অনলাইন জুয়ায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল, নতুন আইন পাস

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি: সংসদে মির্জা ফখরুল

আশ্বাস নয়, রোডম্যাপ চাই: দশম দিনের অবরোধে সুনামগঞ্জ মেডিকেল শিক্ষার্থীরা

নগরীর বুকেই মাদকের 'হটস্পট'! রাতভর জমে অন্ধকার বাণিজ্য

খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছে জামায়াতের প্রতিনিধিদল

আরও কমলো তেলের দাম

ব্রাজিলের ম্যাচ চলাকালে লোডশেডিং: ক্ষোভে বিদ্যুৎ অফিস ভাঙচুর

জানাজায় মুসল্লির ঢল কানাইঘাটে পাঁচ প্রবাসীকে অশ্রুসিক্ত বিদায়