প্রথম ১০০ দিনে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে পর্যটন খাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাঁচ বছর মেয়াদি সরকারের প্রাথমিক এই সময়কে ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার সূচক হিসেবে বিবেচনা করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের একাধিক কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।
সরকারের এসব উদ্যোগের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এসেছে। তবে নীতিনির্ধারকদের মতে, পর্যটন খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন কাঠামো গড়ে তোলাই এই সময়ের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।
সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকা Tarique Rahman পর্যটন শিল্পের বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে উচ্চ পর্যায়ের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত ১৭ সদস্যের এই কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা অন্তর্ভুক্ত আছেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির মূল দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেশের পর্যটন শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণ, খাতটির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে নীতিগত সুপারিশ প্রদান, এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পর্যটন খাতকে শক্তিশালী করা।
কমিটিকে সহায়তা দিতে ১৫টি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সমন্বয়ে একটি কারিগরি সহায়তা কাঠামোও গঠন করা হয়েছে। এতে ভূমি, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, পররাষ্ট্র, পরিবেশ, সংস্কৃতি, নৌপরিবহন, রেলপথসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যুক্ত থাকবেন।
নীতিনির্ধারকদের মতে, পর্যটন খাতকে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে এই ধরনের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে পর্যটন খাত বিকশিত হলে এটি দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশে কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, সিলেটের চা-বাগান অঞ্চল এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে ঘিরে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মহাস্থানগড়, ময়নামতি ও গৌড়ের মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলো সাংস্কৃতিক পর্যটনের কেন্দ্র হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইকো ট্যুরিজম, কালচারাল ট্যুরিজম, রিলিজিয়াস ট্যুরিজম এবং মেডিকেল ট্যুরিজমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হলেও অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি এবং সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।
বর্তমানে পর্যটন এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, মানসম্মত আবাসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সেবা খাতের ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, সিলেট ও বান্দরবানের মতো জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোতে মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নতুন গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির মাধ্যমে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করার উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে বলে নীতিনির্ধারণী মহল সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে এবং এই খাত থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক আয় অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে প্রথম ১০০ দিনের এই উদ্যোগকে পর্যটন খাত পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।