মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দিনদুপুরে চলছে প্রাকৃতিক টিলাভূমি ও সিলিকা বালুসমৃদ্ধ পাহাড়ি ছড়া কেটে নেওয়ার মহোৎসব। এমনকি সেতুর নিচ থেকেও প্রকাশ্যে পলিমাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়লেও এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না উপজেলা প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ছয়ঘড়ি এলাকায় প্রকাশ্যে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভেকু মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে প্রাকৃতিক টিলার লাল মাটি কেটে সমতলে পরিণত করছে। অপরদিকে আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া চা-বাগানসংলগ্ন টিলাভূমি, যা একটি প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত, সেখানেও দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র টিলা ও পাহাড়ি ছড়ার বাঁধ কেটে সিলিকা বালু উত্তোলন করে আসছে।
প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিদিন ট্রাক, পিকআপ ও ট্রলিযোগে এই সিলিকা বালু পরিবহন ও বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা মাঝেমধ্যে বালুবাহী যানবাহন জব্দ করলেও এই বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
শমশেরনগরের সমাজকর্মী এনামুল হক শামীমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২৩ এপ্রিল রাতে সুনছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালুবাহী একটি ট্রাক লোকজন আটক করে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে রেখেছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হলেও ওই গাড়ির বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি তিনি।
এদিকে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর এলাকায় ধলাই নদের ওপর স্টিল সেতুর নিচ থেকে অবাধে পলিমাটি কেটে ট্রাকযোগে স্থানান্তর করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে নদীর বাঁধ ও সেতুর নিচ থেকে মাটি উত্তোলন করে নিচ্ছে। ফলে সেতুটি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোনো সময় সেতু ধসে পড়তে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন।
এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টিলা কাটা, পাহাড়ি ছড়া ও ছড়ার পার্শ্ববর্তী স্থান কেটে সিলিকা বালু উত্তোলন করে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।
এভাবে অবাধে পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমের বিষয়ে কলেজশিক্ষক জমশেদ আলী, পেশাজীবী সোলেমান মিয়া, চা-শ্রমিকনেতা সীতারাম বীনসহ স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের অবহেলার কারণে উপজেলার প্রাকৃতিক অনেক দর্শনীয় স্থান নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ ও আশপাশের রাস্তাঘাট, কৃষিজমি, সেতু-কালভার্ট হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।
ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ইসলামপুর ইউনিয়নে টিলা কাটার বিষয়টি অবহিত হয়েছি। বিষ্ণুপুরে সেতুর নিচ থেকে মাটি কাটা ও সুনছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এসব বিষয়ে স্থানীয়দেরও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।