সিলেট নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া দুই তরুণ-তরুণীর গোপনে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ধর্মীয় উসকানি ও সামাজিক অপপ্রচারের অভিযোগে রেস্টুরেন্টের দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার মধ্যরাতে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ ‘মেহমান রেস্টুরেন্ট’-এ যৌথ অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— গোয়াইনঘাটের বাসিন্দা ও বর্তমানে নগরীর কাজিটুলার বাসিন্দা আহবাবুজ্জামান আনোয়ার (২৪) এবং হবিগঞ্জের বাসিন্দা ও বর্তমানে জিন্দাবাজারের সিতারা ম্যানশনে বসবাসরত মো. সামছুল আমীন (২৭)। তাঁরা উভয়েই মেহমান রেস্টুরেন্টের কর্মচারী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণ নগরীর কাষ্টঘর এলাকার বাসিন্দা উমাশঙ্কর গুপ্ত চৌধুরী বাদী হয়ে সোমবার কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে উমাশঙ্কর গুপ্ত চৌধুরী তাঁর বান্ধবী ফারিয়া সুলতানা আনিসাকে নিয়ে জিন্দাবাজারের মেহমান রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যান। সেখানে অবস্থানকালে গোপনে তাঁদের ছবি তোলা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে ওই ছবিগুলো ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্য জুড়ে দিয়ে চরম অপপ্রচার চালানো হয়। এতে পরিবার ও সামাজিকভাবে তাঁরা চরম হেনস্তা ও মানহানির শিকার হন।
পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর মেহমান রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে রেস্টুরেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই কর্মীকে গোপনে ওই যুগলের ছবি তোলার প্রমাণ মেলে। এর ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আনোয়ার ও সামছুলকে আটক করে।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির জানান, গোপনে ছবি তুলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও হয়রানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি ছড়িয়ে দিয়ে যারা ধর্মীয় উসকানি ও সাইবার হেনস্তা করেছে, তাদের শনাক্ত করতে পুলিশের সাইবার টিম কাজ করছে।