রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
ডিসেম্বরের সময়সীমা ঘিরে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন কৌশল বস্তির অন্ধকারে মাদকের কারবার, বাইরে সম্পদের ঝলক একই ফ্যানে ঝুলছিল গর্ভবতী মা ও ৪ বছরের সন্তানের লাশ, জকিগঞ্জে চাঞ্চল্য গোলাপগঞ্জে পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ আটক ১ গোলাপগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে দেলোয়ার ও ফাহাদ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ পরিবারের পাশে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ১৮ বছরের কম বয়সী চালক গাড়ি চালাতে পারবে না: এমপি মিলন বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে কানাডার বিনিয়োগ নিয়ে বৈঠক রাজপথ দখলে রাখতে হবে, ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: অ্যাডভোকেট জামান বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকে, কিন্তু সাধারণ মানুষের বাড়িতে থাকে না: শফিকুর রহমান
advertisement
সিলেট বিভাগ

নবীগঞ্জে শিক্ষক মাসুক পারভেজ হত্যা

নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড?

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শিক্ষক মাসুক পারভেজের মৃত্যু ঘিরে রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। প্রথমে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও হাইওয়ে পুলিশের পাঁচ দিনের অনুসন্ধানে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে তথ্য উঠে এসেছে। মেয়েকে দিয়ে ডেকে নেওয়া, এরপর নম্বরবিহীন পিকআপ দিয়ে পিছু নেওয়া এবং মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় নিহত মাসুক পারভেজের সাবেক স্ত্রী আমিনা বেগম হ্যাপী ও তাঁর ভাই সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যাচ্ছে না।

এদিকে একই ঘটনায় মাসুক পারভেজের সঙ্গে থাকা অফিস সহায়ক শামীম আহমেদও গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের দাবি, শামীম কোনোভাবেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না; তিনি শুধু সহকর্মী মাসুকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট শনিবার সকালে আমিনা বেগম তাঁর বড় মেয়ে মিতি বেগমকে ফোন করে বাবাকে নতুন কাপড়, জুতা ও ছাতা নিয়ে আসতে বলেন। মেয়ের ফোন পেয়ে মাসুক পারভেজ ওই দিন দুপুরে নবীগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলে করে পানিউদা গ্রামে সাবেক শ্বশুরবাড়িতে যান।

মেয়ের সঙ্গে দেখা করার পর সেখান থেকে ফেরার পথে তাঁর মোটরসাইকেলের পিছু নেয় একটি নম্বরবিহীন ডিআই পিকআপ।

পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, পানিউদা থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে সদরঘাট নতুন বাজার এলাকায় পিকআপটি পেছন থেকে মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মাসুক পারভেজ ও তাঁর সঙ্গে থাকা শামীম আহমেদ ছিটকে সড়কে পড়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে, মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাওয়ার পরও পিকআপটি তাঁদের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়। পরে পিকআপটি একটি মাটির ঢিবিতে ধাক্কা দেয়। এতে মাসুক পারভেজ নিহত হন এবং গুরুতর আহত শামীম আহমেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ১২ বছর আগে পানিউদা গ্রামের খাইরুল ইসলামের মেয়ে আমিনা বেগমের সঙ্গে মাসুক পারভেজের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই মেয়ে—মিতি ও মিতু।

দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আমিনা বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে যৌতুকসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁদের মধ্যে একাধিক মামলা চলছিল বলে স্বজনরা জানান।

সম্প্রতি একটি যৌতুক মামলায় আদালতের রায় মাসুক পারভেজের পক্ষে যায়। একই সঙ্গে মাসে একবার দুই মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান তিনি। এরপর পারিবারিক বিরোধ আরও তীব্র হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের দাবি, এ বিরোধের জেরেই মাসুক পারভেজকে হত্যার পরিকল্পনা করা হতে পারে।

 

পুলিশের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে সিরাজুল ইসলাম স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন ডিআই পিকআপ কিনেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

ঘটনার দিন পানিউদা বাজার থেকে ওই পিকআপ নিয়ে মাসুক পারভেজের মোটরসাইকেলের পিছু নেওয়া হয় বলে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দুর্ঘটনার পর চালক পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে নিজেদের জিম্মায় রাখেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর থেকেই এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ প্রশ্ন সামনে আসে। হাইওয়ে পুলিশের অনুসন্ধানে একাধিক নতুন তথ্য পাওয়ার পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শী বাউল শামীম ও স্থানীয় যুবক আরিয়ান হাসান জানান, পিকআপটি পেছন থেকে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেওয়ার পরও চালক গাড়ির চাকা তুলে দেন। ঘটনাটি দেখে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

তাঁদের বক্তব্য, ঘটনাটি সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনার মতো মনে হয়নি।

 

নিহত শামীম আহমেদের বাবা ইসমত মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিল। সে শুধু বন্ধু মাসুকের সঙ্গে তাঁর শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিল। ফেরার পথে তাঁর শ্যালক ট্রাকচাপা দিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’

শামীমের মা করুণা বেগম বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই। আমার ছেলের কী অপরাধ ছিল যে তাকে এভাবে হত্যা করা হলো? আমার ছেলে বলেছিল বাড়ি এসে ভাত খাবে। কিন্তু সে আর ফিরল না।’

গোল্ডবাভ আব্দুল মান্নান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুক পারভেজ ও পিয়ন শামীম আহমেদ মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে এ মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে আমরা পাঁচ দিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে বেশ কিছু ক্লু পেয়েছি। চালক তাঁর বোনের জামাইকে চাপা দিয়েছেন। লাইসেন্সবিহীন গাড়ি দিয়ে কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যা মামলা গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নিহত শিক্ষক মাসুক পারভেজের কর্মস্থল গোল্ডবাভ আব্দুল মান্নান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে শোক বিরাজ করছে। একই সঙ্গে একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—মাসুক পারভেজের মৃত্যু কি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর আড়ালে ছিল ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড?

এই সম্পর্কিত আরো

ডিসেম্বরের সময়সীমা ঘিরে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন কৌশল

বস্তির অন্ধকারে মাদকের কারবার, বাইরে সম্পদের ঝলক

একই ফ্যানে ঝুলছিল গর্ভবতী মা ও ৪ বছরের সন্তানের লাশ, জকিগঞ্জে চাঞ্চল্য

গোলাপগঞ্জে পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ আটক ১

গোলাপগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে দেলোয়ার ও ফাহাদ

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ পরিবারের পাশে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন

১৮ বছরের কম বয়সী চালক গাড়ি চালাতে পারবে না: এমপি মিলন

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে কানাডার বিনিয়োগ নিয়ে বৈঠক

রাজপথ দখলে রাখতে হবে, ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: অ্যাডভোকেট জামান

বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকে, কিন্তু সাধারণ মানুষের বাড়িতে থাকে না: শফিকুর রহমান