সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় দুই সন্তানকে ঘরে ফেলে রেখে স্বামীর জমানো নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে ভারতে পালানোর সময় বর্ডারে আটক হয়েছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী। ৩ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সংলগ্ন চাতলাপুর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসীর ভাই দক্ষিণ সুরমা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আটককৃতরা হলেন—সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ডের কদমতলী (স্বর্ণশিখা) এলাকার মৃত মো. লিলু মিয়ার মেয়ে ফেরদৌস আক্তার নাজু (২৭) এবং তার প্রেমিক গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঘা গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে বুরহান উদ্দিন উজ্জ্বল (৩২)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাজুর স্বামী হাবিবুর রহমান জীবিকার তাগিদে প্রবাসে অবস্থান করছেন। তাদের ৯ বছর বয়সী ছেলে রিফাত ও ৪ বছর বয়সী মেয়ে তাবাসুমকে নাজুর কাছে রেখে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে উজ্জ্বল নামের ওই যুবকের সাথে নাজু পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হন। ৩ সেপ্টেম্বর সকালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সন্তানদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘর নির্মাণের জন্য জমানো নগদ ৬ লাখ টাকা ও প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে তিনি প্রেমিকের সাথে চাতলাপুর বর্ডার দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেন।
ইমিগ্রেশন পুলিশের সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে নাজু তার প্রবাসী স্বামীর মোবাইল নম্বর প্রদান করেন। পুলিশ হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি তার স্বজনদের জানান। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশ উভয় পক্ষের অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের মুক্তি দেয় এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানোর পরামর্শ দেয়।
এ ঘটনায় প্রবাসী হাবিবুর রহমানের বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা মডেল থানায় ফেরদৌস আক্তার নাজু ও বুরহান উদ্দিন উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা যোগসাজশ করে অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎ করে দেশত্যাগের চেষ্টা চালিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই কামরুজ্জামান জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ৫ সেপ্টেম্বর তদন্ত শুরু করেছি। উভয় পক্ষকে থানায় উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দক্ষিণ সুরমা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রবাসীর ভাইয়ের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।