সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার নিকুঞ্জ ভিলায় তিনজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জবানবন্দি দিতে সম্মত হন।
আদালতে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও পুলিশের তথ্যমতে, গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ‘নিকুঞ্জ ভিলা’য় প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কও ছিল। ঘটনার দিন তাহমিনা দরজা খুলে দিলে বাবুল মিয়া বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তিনি তাহমিনাকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। এতে তাহমিনা অসম্মতি জানালে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বাবুল মিয়া তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করেন। তার চিৎকার শুনে সুরাইয়া বেগম ও আব্দুস সাত্তার একে একে এগিয়ে এলে ধরা পড়ার ভয়ে তাদেরও হত্যা করেন বাবুল। পরে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, রিমান্ডে থাকাকালে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছোরাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালতের নির্দেশে বাবুল মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের স্থানীয় উপদেষ্টাও ছিলেন। একই পরিবারের দুই সদস্য ও গৃহপরিচারিকাকে হত্যার ঘটনায় পুরো সিলেটে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।