সিলেটের বিয়ানীবাজারে বহুল আলোচিত সাদিকুল ইসলাম রূপক (২৭) হত্যাকাণ্ডের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
গত ৩১ মে পৌরশহরের খাসাড়িপাড়া এলাকায় নিজ বসতঘর থেকে রূপকের দুই হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় তাঁর মা ও স্ত্রী এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। পরদিন বাড়ি ফিরে তারা এ দৃশ্য দেখতে পান। হাত বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শুরু থেকেই পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে।
এ ঘটনায় নিহতের মা রাবিয়া বেগম বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দুই মাস অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, তদন্তের শুরুতেই পুলিশের অপেশাদার আচরণের কারণে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংরক্ষণে ঘাটতি ছিল, যা তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
নিহতের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভাই জহরুল ইসলাম ইপক বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পেতে এত দীর্ঘ সময় লাগা বিস্ময়কর। তাঁর অভিযোগ, তদন্তের বিবরণ ও বাস্তব ঘটনার মধ্যে বিস্তর অমিল রয়েছে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
অন্যদিকে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন পুলিশ পৌঁছানোর আগেই বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে যায়। এতে তদন্তের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহতের পরিচিত বা আড্ডাসঙ্গীদের কেউ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।
সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত পরিবার এখনও নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দীর্ঘ সময়েও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এরই মধ্যে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসী বিয়ানীবাজার থানা ঘেরাও, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা অবিলম্বে তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।